রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘গবেষণায় তথ্য-উপাত্ত ভবিষ্যতে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগবে। এছাড়া, তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে আগামী বাজেটে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় রাজস্ব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
গবেষণা ফলাফলে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের দুর্বল অবস্থানের অন্যতম কারণ হিসেবে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)-তে সরকারের ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার থাকাকে দায়ী করেন সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিএটিবির পরিচালনা পর্ষদের ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। এভাবেই তামাক কোম্পানি হস্তক্ষেপ চালানোর সুযোগ পায়।’
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
অনুষ্ঠানে গবেষণা ফল তুলে ধরতে গিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞাণ) কো অর্ডিনেটর হাসান শাহরিয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের তামাকবিরোধী নানাবিধ কার্যক্রমের ফলে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে তামাকের ব্যবহার ১৮ দশমিক ৫ শতংশ কমেছে। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে- গ্যাটস ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে তামাক ব্যবহারকারীর হার ৩৫ দশমিক ৩ শতংশ (৩ কোটি ৭৮ লাখ)। ২০০৯ সালে পরিচালিত প্রথম গ্যাটস জরিপে তামাক ব্যবহারকারীর এই হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩ শতংশ (৪ কোটি ১৩ লাখ)। তবে, তামাক কোম্পানির বিদ্যমান হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন পিছিয়ে যেতে পারে।
গবেষণার সংক্ষিপ্ত ফলে জানা গেছে, তামাক কর সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানির অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়েছে। তামাক কোম্পানির সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে বিড়ির ওপর প্রস্তাবিত সম্পূরক শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় তামাক কোম্পানিকে নানাভাবে সুবিধা দেওয়ার নজির গবেষণায় পাওয়া গেছে।