আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

 

মিট দ্য প্রেসে বক্তব্য রাখছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালএ বছরের (২০১৮) জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে বলে জানালেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। তিনি বলেন, ‘খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।’ বৃহস্পতিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে দেশের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘ জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে আগস্টে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যা জুলাইতে ছিল ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। যা জুলাইয়ে ছিল ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।’  তিনি বলেন, ‘এই বছর বাংলাদেশের জিডিপি দাঁড়াবে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। ক্রয়ক্ষমতা সমতার দিক থেকে (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি- পিপিপি) ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিংগাপুরের, ইরাক, কলম্বিয়ার মত দেশগুলোকে পিছে ফেলে অর্থনৈতিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত দেশের পথে হাঁটতে হলে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে এককথায় বলা যায়, ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন অপরিহার্য। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দলিল। একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত, কারিগরি ও আর্থসামাজিক দলিল এই পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ,  ইচ্ছা ও নির্দেশে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার এই পরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন এবং পানি, জলবায়ু, পরিবেশ ও ভূমির টেকসই ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলাসহ ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাংলাদেশের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করবে।