ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘নির্বাচনে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর উপস্থিতি যথেষ্ট দৃশ্যমান। রাজনীতিবিদদের চেয়েও হয়তো ব্যবসায়ী গোষ্ঠীরই তুলনামূলকভাবে উপস্থিতি বেশি দৃশ্যমান। ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এখন প্রয়োজন বোধ করছে, রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে। কারণ, যে সব সুযোগ তারা অনেক ক্ষেত্রে পেয়েছে, সেটা একমাত্র রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য দ্বারাই সুরক্ষা করা সম্ভব।’
দেবপ্রিয় বলেন, ‘অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চালিকাশক্তিটা কী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, এই চালিকাশক্তি হওয়ার কথা মূলত আমাদের উদ্যোক্তাদের। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আমাদের উদ্যোক্তা শ্রেণি এজন্য প্রস্তুত নয়। এর বড় কারণ হলো, উদ্যোক্তা শ্রেণি নিজেদের শ্রেণিস্বার্থ রক্ষা করে না। প্রভাবশালী উদ্যোক্তারা কেবল ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত।’ তিনি বলেন, ‘নীতির ভিত্তিতে সর্বজনীনভাবে ব্যবসার সুবিধা লাভ করার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগীর সৃষ্টি হয়েছে। নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী ব্যক্তি উদ্যোক্তার সৃষ্টি হয়েছে, এর ফলে সার্বিকভাবে অর্থনীতি কর্মক্ষম হচ্ছে না।’
নির্বাচনি হলফনামায় দেওয়া প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পরামর্শ দেন দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, ‘সেই সঙ্গে ঋণখেলাপি ও কর ফাঁকিবাজদের তথ্যও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা তৈরির দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। অর্থনীতির কাঠামোগত রুপান্তর ও সরকারি নীতি সংস্কারের বিষয়েও এতে তুলে ধরা হয়।
সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ‘নির্বাচনি ইশতেহারে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তরের দিক সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রতিফলন থাকা উচিত।’ তিনি মনে করেন, ‘আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের বড় বাজার হবে।’ সেভাবে উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।