আলু রফতানিতে পিসি নিশ্চিত করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী


কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক (ফাইল ছবি)বাংলাদেশ আলু রফতানি করতে চায় বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে চাহিদার চেয়ে আলুর উৎপাদন অনেক বেশি। আলু রফতানি নিয়ে আমাদের নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করে আমাদের রফতানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানিকারক দেশ যেসব শর্ত দিয়েছে, তা মেনে ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট বা উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট (পিসি) নিশ্চিত করতে হবে।’

মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এক সভায় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন।আলু রফতানির ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যা নিরসনে করণীয় সম্পর্কে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আলু তথা কৃষিপণ্যের রোগ নির্ণয়ের একাধিক ল্যাবেরটরি স্থাপন করতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ল্যাবরেটরি থাকবে তদারকির জন্য। আমাদের যে কয়টি ল্যাবেরটির রয়েছে, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেগুলোর অ্যাক্রিডিটেশন নিশ্চিত করতে হবে।’

কৃষিপণ্য রফতানিতে সমস্যা নিরূপণে একটি কমিটি গঠনেরও তাগিদ দেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। রফতানির জন্যও একটি সেল গঠন করতে কৃষি সচিবকে নির্দেশ দেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আলু রফতানির প্রধান অন্তরায় রোগ-জীবাণু ও অপরিপুষ্ট আলু। রফতানির উপযোগী আলু আহরণ যথাসময়ে করতে হবে। এর জন্য কন্ট্রাক্ট ফার্মিং করা যায় কিনা, তা নিরূপণ করতে হবে। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর ব্যাপারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আলুর ব্রাউন রোগসহ অন্যান্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।’

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় আলু রফতানির জন্য যে নির্দেশনা রয়েছে, তা পূরণ করে রফতানির ব্যবস্থা নেওয়া এবং আরও নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য যেসব দেশে আলু রফতানি হচ্ছে সেসব দেশে রফতানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা, তা দেখতে হবে ও ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট বা উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট (পিসি) নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় বলা হয়, ২০১৪ সালে রাশিয়ায় রফতানি করা আলুতে ত্রুটিরঅভিযোগ তুলে তারা পরবর্তীতে রফতানি বন্ধ করে। সেই সময় আমাদের আলুর রোগ শনাক্তকারী ব্যবস্থা ছিল না, এখন সব ধরনের জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া শনাক্তকরণের সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের চারটি ল্যাবেরটরি যেমন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ব ল্যাবেরটরি এবং বিসিএসআই’র ল্যাবেরটরিগুলো বালাইনাশক ও কীটনাশকের এআরএল পরীক্ষার জন্য অ্যাক্রিডিটেড এবং হেভি মেটাল পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ পরমানণু শক্তি কমিশন ল্যাবরেটরিটি অ্যাক্রিডিটেড। এছাড়া আলুর মাইকোটক্সিন ও মাইক্রোবায়োলজি কন্টিমিনিটেন্টস পরীক্ষার জন্য বিএসটিআই ল্যাবেরটরিটি অ্যাক্রিডিটেড। এছাড়া বেসরকারি এসজিএস ল্যাবেরটরিটিও অ্যাক্রিডিটেড। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।