বৈঠকে পৃথক এসএমই ব্যাংক স্থাপনের প্রস্তাবকে বাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করেন শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের এসএমই সেক্টরের উদ্যোক্তারা শক্তিশালী হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি জোরদার হবে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে। বর্তমান সরকার চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে দুটি ট্যানারি শিল্পপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ট্যানারি বর্জ্য থেকে বাই-প্রোডাক্ট তৈরির কার্যক্রম চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসীর এর নেতৃতে বৈঠকে ডিসিসিআই জেষ্ঠ সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক মো. রাশেদুল করিম মুন্না, হোসেন এ সিকদার, এনামুল হক পাটোয়ারী, এসএস জিল্লুর রহমান, আন্দালিব হাসান, দ্বীন মোহাম্মদ, আশরাফ আহমেদ, নূহের লতিফ খান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীর দেশীয় ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষায় আমদানি করা ক্ষুদ্র শিল্পপণ্যের বিপরীতে শুল্কের হার বৃদ্ধি এবং দেশে উৎপাদিত কারখানার অনুকূলে বিদ্যুৎ বিল ও করের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার দাবি জানান। শিল্পখাতে ঋণের সুযোগ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ডিসিসিআই সভাপতি দেশের শিল্পায়নের বিকাশ ও শিল্পপণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নিয়ে আসা এবং এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সহজলভ্যতা একান্ত জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন।
বৈঠকে শিল্পখাতে পণ্য বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ প্রদান, এসএমই রফতানি উন্নয়ন ডেস্ক স্থাপন, বৃহৎ শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ভিত্তিক এসএমই মডেল অনুসরণ, সরকারি মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিল্পসহায়ক অবকাঠামো তৈরি, দক্ষ জনবল সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় শিল্পখাতের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, ব্যবসা সহজীকরণ, নিরাপদ কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনা, হালাল পণ্যের সার্টিফিকেশন এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বিনিয়োগ জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়।
ডিসিসিআই সদস্যরা পৃথক এসএমই ব্যাংক স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এর মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত শিল্পপণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে। বর্তমানে গৃহ বা গাড়ি ঋণ বাবদ এসএমই খাতের অর্থায়নের বিরাট অংশ চলে যাচ্ছে। তারা এর পরিবর্তে শুধু উৎপাদনমুখী শিল্প ও সেবাখাতে অর্থায়নের জন্য এসএমই ব্যাংকের ম্যান্ডেট নির্ধারণ করে দেওয়ার সুপারিশ করেন।
এর জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের বিকাশে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শিল্পখাতে ঋণের সুদ এক অঙ্কে নির্ধারণের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।’ বর্তমান সরকারকে ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব উল্লেখ করে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের যেকোনও সমস্যা সমাধানে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও মন্ত্রী জানান।