‘বাজেটকে প্রভাবিত করতে তামাক কোম্পানিগুলো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে’




প্রজ্ঞাবাজেটকে প্রভাবিত করতে তামাক কোম্পানিগুলো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তামাক বিরোধী গবেষণা প্রতিষ্ঠান (প্রগতির জন্য জ্ঞান) প্রজ্ঞা।

তামাক বিরোধী এই সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কর ও মূল্যবৃদ্ধি না করার জন্য গণমাধ্যমে সংঘবদ্ধ প্রচারণা শুরু করেছে তামাক কোম্পানিগুলো। রাজস্ব হারানোর ভীতি সৃষ্টি করতে সিগারেট চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্য বৃদ্ধির ভয় দেখিয়ে নীতিনির্ধারকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা।

করারোপের মাধ্যমে সিগারেটের দাম বাড়লেও চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্য বাড়বে এবং সরকার বিপুল পরিমাণে রাজস্ব হারাবে, এই অসত্য প্রচারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তামাক কোম্পানিগুলো প্রতিবছর বাজেটের আগে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা ও ক্যাম্পেইন চালায়। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- অতীতের মতো এবারও তামাক কোম্পানিগুলো তাদের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে বিভিন্ন গবেষণার তথ্য-উপাত্ত বিকৃতভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরছে এবং তামাকবিরোধী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছে। সিগারেটের রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধ্য বাণিজ্য নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদন তৈরি করে বিভিন্ন শিরোনামে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়- তামাকবিরোধী গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নাম ব্যবহার করেও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তামাক কোম্পানির এই মিথ্যা প্রচারণায় দেশের কিছু শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিভ্রান্ত হয়ে তাদের অযৌক্তিক দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি (ফেব্রুয়ারি, ২০১৯) বিশ্বব্যাংক তামাকপণ্যের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশে সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য ২৭টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ। ভারতে যা ১৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৩৮ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৩৬ শতাংশ এবং লাটভিয়া সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তামাকের ওপর কর বাড়ানোর সঙ্গে অবৈধ বাণিজ্য বাড়ার তেমন কোনও সম্পর্ক নেই, বিষয়টি প্রশাসনিক। যেহেতু সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান দেশের দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ইঙ্গিত করে, সেহেতু তামাক কোম্পানির ফাঁদে পা দিয়ে এর স্বপক্ষে কোনও ধরনের বক্তব্য দেওয়া কিংবা বিভ্রান্তিমূলক খবর প্রকাশ নীতিনির্ধারক ও জনমনে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।