ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর-রশীদ চৌধুরী বলেন, দেশের আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজার চরমভাবে হতাশার মধ্য দিয়ে চলছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং পুঁজিবাজারকে নাজুক অবস্থায় রেখে দেশকে আমরা কোন উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাচ্ছি, বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিএসইসি চেয়ারম্যান খাইরুল হোসেন ও কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামীসহ সব কমিশনারের অপসারণ চাই এবং মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি।
মিজান-উর-রশীদ চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারে ২০১০ সালে ভয়াবহতম পতনের পর বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিএসইসিতে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা বাজার স্বাভাবিক করার পরিবর্তে উল্টো বাজারকে আরও বেশি অস্বাভাবিক করে তুলেছেন। স্মরণকালের মহাধসের পর পুঁজি ও জীবনরক্ষার জন্য দিশেহারা, পুঁজিহারা বিনিয়োগকারীরা লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে পুঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে রনি জামান, রনি সাহা, লে. কর্নেল ডা. মাহবুবুর রহমান, মিল্লাত হোসেন, হাবিবুর রহমান, রতন চৌধুরী, লিয়াকত আলী যুবরাজ, দিলদার হোসেনসহ অসংখ্য নাম না জানা বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা ও হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা থেকে শুরু করে অধিকাংশ স্টক হস্তান্তরের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা, ঢাকা-চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, আইসিবি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বেশকিছু অসাধু কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট পুঁজিবাজার ধসের মূল কারণ। এছাড়া সেকেন্ডারি মার্কেটের আদলে বা সমান্তরালে অনৈতিক প্লেসমেন্ট বাণিজ্য ও দুর্বল কোম্পানি আইপিও-তে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সর্বস্বান্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিশন ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট ৯০টি কোম্পানির অনুমোদন দিয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ কোম্পানি ফেসভেলু ও ইস্যু মূল্যের নিচে অবস্থান করছে। সিএনএ টেক্সটাইল, ফ্যামিলি টেক্স, টুংহাই নিটিং, কাট্টলি টেক্সটাইল, অ্যাপোলো ইস্পাত, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, এমারেল্ড ওয়েলসহ অনেক কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এই কোম্পানিগুলো অনৈতিকভাবে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের ২১ দাবি