ইলিশ ধরা শুরু বৃহস্পতিবার থেকে

ইলিশদেশের নদ-নদী থেকে ইলিশ ধরার ওপর গত ৯ অক্টোবর শুরু হওয়া সরকারের নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হলো বুধবার (৩০ অক্টোবর)। এর ফলে আগামীকাল, বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে আবারও শুরু হবে নদীতে ইলিশ ধরা। বাজারে উঠবে রুপালি ইলিশ। নদীতে থাকবে না কোনও অভিযান।     

উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন দেশের নদ-নদী থেকে ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুত ও পরিবহন নিষিদ্ধ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রতি অক্টোবরের ২২ দিন দেশের সব নদ-নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। খ্রিষ্টীয় অক্টোবরের সময় বাংলায় চলে আশ্বিন মাস।  এই আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমায় ডিম ছাড়ে মা ইলিশ। ডিম ছাড়ার জন্য এই সময় মা ইলিশ সাগরের লোনা পানি ছেড়ে মিঠাপানির নদীতে আসে। স্বাচ্ছন্দ্যে বাধাহীনভাবে ডিম ছাড়ার সময়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ওই সময় সব ধরনের মাছ শিকারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘প্রথম দফায় মা ইলিশকে স্বাচ্ছন্দ্যে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে নদীতে ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছি। ওই নিষেধাজ্ঞার সময় ৩০ অক্টোবর শেষ হয়েছে। ফলে আগামীকাল ‘বৃহস্পতিবার) থেকে জেলেরা আবার নদীতে নামবেন, মাছ ধরবেন। তবে, এ সুযোগ বেশিদিন থাকবে না। কারণ কয়েকদিন পরেই আবারও জাটকা সংরক্ষণে নদীতে জাল ফেলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যখন জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারেন না, তখন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। এ সময় সরকারের তালিকাভুক্ত ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৯ জন কার্ডধারী জেলে সরকারের সহায়তা হিসেবে ৪০ কেজি করে চাল পান।’   

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ মূলত সারাবছরই ডিম ছাড়ে। তবে, আশ্বিনের এই সময়ে ৮০ শতাংশ মা ইলিশ মিঠা পানিতে ডিম ছাড়ে। তাই আশ্বিনের পূর্ণিমার চার দিন আগে এবং পূর্ণিমার পরে ১৮ দিন মোট ২২ দিন দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, নদীর মোহনাসহ যেসব জেলা ও নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়, সেই সব স্থানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে।

সরকার ইলিশের জন্য মোট ৬টি অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার, সেগুলো হচ্ছে—ভোলার চর ইলিশার মদনপুর থেকে ভোলার চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনার ১০০ কিলোমিটার, শরীয়তপুরের নড়িয়া থেকে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মার ২০ কিলোমিটার, বরিশাল সদরের কালাবদর নদীর হবিনগর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জের বামনীরচর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার, মেহেন্দীগঞ্জের গজারিয়া নদীর হাটপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং হিজলার মেঘনার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার।

এছাড়া, আড়িয়াল খাঁ, নয়নভাংগুলী ও কীর্তনখোলা নদীর আংশিক অভয়াশ্রমটির অন্তর্ভুক্ত। বরিশালের আশপাশের ৮২ কিলোমিটার নদীপথকে নিয়ে নতুন অভায়শ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এই ৬টি অভয়াশ্রমের বাইরে দেশের উল্লেখযোগ্য নদীতে এ সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয় ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।