চালু হলো পায়রা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সঞ্চালন লাইন। পটুয়াখালী (পায়রা)-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন আজ মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকাল ৪ টা ৫২ মিনিটে গোপালগঞ্জ গ্রিড সাবস্টেশন প্রান্ত থেকে ৪০০ কেভি ভোল্টেজ দিয়ে লাইনটি চালু করা হয়। ফলে আগামী জানুয়ারির শেষ অথবা ফেব্রুয়ারি থেকে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের সবচেয়ে বড় এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পটুয়াখালীতে নির্মাণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়াত্ত নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) ও চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) যৌথভাবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করে। এনডব্লিউপিজিসিএল এবং সিএমসি যৌথভাবে কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল) গঠন করা হয়। চীনের এক্সিম ব্যাংকের ১৬ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সহায়তায় কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। কেন্দ্রের সমান মালিকানা রয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের হাতে। গত জুনে কেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আসার সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি পিজিসিবি। এ কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন শুরুর সময় কয়েক মাস পিছিয়ে যায়।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া জানান, প্রায় ১৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডবল সার্কিটের হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনটি পটুয়াখালী জেলার পায়রা হতে পটুয়াখালী সদর-বরগুনা-ঝালকাঠি-বরিশাল-মাদারীপুর হয়ে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় নবনির্মিত ৪০০/২৩০ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে সংযুক্ত হয়েছে।
নবনির্মিত লাইনটির প্রতি ফেজ-এ চারটি করে অত্যাধুনিক ‘এসিসিসি কন্টাক্টর’ (তার) ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অন্যান্য ৪০০ কেভি লাইনের তুলনায় এই লাইনের সঞ্চালন সক্ষমতা কয়েকগুণ বেশি হবে। এ লাইনের মাধ্যমে পায়রায় নির্মিতব্য ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হবে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাইন হওয়ায় ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আরও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও তা এই লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা যাবে। পিজিসিবির ‘পটুয়াখালী (পায়রা)-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় লাইনটি নির্মাণ করা হয়েছে।
পিজিসিবির কর্মকর্তারা জানান, পায়রা থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত লাইনটি নির্মাণ করতে চারটি খরস্রোতা নদী পার করতে হয়েছে। নদীগুলো হলো-পায়রা, সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও লাউকাঠি নদী। লাইনটি নেওয়ার জন্য নদীগুলোর উভয়প্রান্তে সুউচ্চ রিভারক্রসিং টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।
বিসিপিসিএল সূত্র বলছে, সঞ্চালন লাইন পেলে তিন ধাপে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরীক্ষার কাজ শুরু হবে। কিছু যন্ত্রাংশ রয়েছে যা পরীক্ষার জন্য ৪০০ কেভি লাইনের প্রয়োজন। তিন ধাপে পরীক্ষার প্রথমধাপে লার্জ ইকুইপমেন্ট (বড় যন্ত্রাংশ) টেস্টিং করা হবে। এরপর পারফরমেন্স টেস্ট (কর্মদক্ষতা পরীক্ষা) করা হবে। সব শেষ ধাপ হিসেবে রিলায়েবিলিটি রান (নির্ভরশীল পরীক্ষণ পরীক্ষা) করা হবে। এরপর কেন্দ্রটি উৎপাদন শুরুর ঘোষণা দেওয়া হবে।
বিসিপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম বলেন, সবগুলো টেস্ট শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগবে আমাদের। চলতি মাসের শেষেই আশা করছি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা যাবে। আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ দেওয়া যাবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, সঞ্চালন লাইনের কারণে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছিলাম না। বিদ্যুৎ না পেলে আমাদের যন্ত্রপাতিগুলো টেস্ট করা যাচ্ছিল না। সেই কাজগুলোও আমরা আগামীকাল থেকে শুরু করবো।