বড় ব্যবসার জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন

বাংলাদেশ ব্যাংককরোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা দেওয়ার জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে একটি গাইডলাইন তৈরি করে সার্কুলার আকারে জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর্থিক সহায়তার এই প্যাকেজের তারল্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ হাজার কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে।

স্কিমের নাম: বৃহৎ শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম।

তহবিলের উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল।

তহবিলের পরিমাণ: ১৫ হাজার কোটি টাকা।

মেয়াদ: এ স্কিমের মেয়াদ হবে তিন বছর।

সুদ হার: সুদ হার হবে ৪ %, যা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে (মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর ভিত্তিক) আরোপিত হবে।

ব্যাংক-ওয়ারী তহবিল বরাদ্দ: প্রতিটি ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দকৃত তহবিলের বিপরীতে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিতরণকৃত ঋণের সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত অর্থ এ স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন পাওয়া যাবে। তবে এ স্কিমের আওতায় গৃহীত ঋণ কোনোভাবেই অন্য কোনও খাতে বা উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান: এ স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণে ইচ্ছুক ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অংশগ্রহণমূলক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে বৃহৎ শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ স্কিমের আওতায় নিজস্ব সীমার মধ্যে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

তহবিল ব্যবস্থাপনা: এ স্কিমের আওতায় পরিচালনাগত যাবতীয় কার্যক্রম ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন কর্তৃক সম্পাদিত হবে।

অন্যান্য নির্দেশাবলি: এ স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়নকৃত অর্থ অন্য কোনও খাতে ব্যবহার করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সে পরিমাণ অর্থের ওপর নির্ধারিত সুদ হারের অতিরিক্ত ২% হারে সুদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এককালীন আদায় করা হবে।