বাড়ছে নারীর সম্পৃক্ততা: এসএমই শিল্পের সংজ্ঞায় পরিবর্তন

এসএমইঅর্থায়নের ক্ষেত্রে এসএমই শিল্পের সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।  প্রজ্ঞাপনে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি এই তিন ধরনেরর প্রতিষ্ঠানকে এসএমই শিল্প বলা হয়েছে। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো ওই প্রজ্ঞাপনে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক কাজ করা প্রতিষ্ঠানকে মাঝারি শিল্প হিসাবে গণ্য করতে হবে। সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ জন শ্রমিক কাজ করা প্রতিষ্ঠানকে মাঝারি শিল্প বলতে হবে এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে১১ থেকে ৫০জন শ্রমিক কাজ করলে, সেই প্রতিষ্ঠানটিকেও মাঝারি শিল্প বলে গণ্য করে অর্থায়ন করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে২৫ থেকে ৯৯ জন শ্রমিক, সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে১০ থেকে ৪৯ জন শ্রমিক এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে৬ থেকে ১০জন শ্রমিক কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে গণ্য করে অর্থায়ন করতে হবে।

তবে যদি ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২৪ জন, সেবার ক্ষেত্রে ১০ এর কম এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ৫ জনের কম শ্রমিক নিয়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানকে মাইক্রো শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করতে হবে। তবে পারিবারিকভাবে গড়ে ওঠা ১০ জনেরও কম সদস্যের প্রতিষ্ঠানকে কুটির শিল্প হিসেবে গণ্য করা হবে।

নারী উদ্যোগ

কোনও নারী ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক হলে ওই প্রতিষ্ঠানকে নারী উদ্যোগ হিসেবে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বলা হয়েছে, এখন থেকে মোট ঋণের ২০ শতাংশ এসএমই শিল্পে বিতরণ করতে হবে। সামগ্রিক এসএমই খাতে ঋণ বিতরণে মাঝারি খাতের চেয়ে ক্ষুদ্র খাতে ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এসএমই খাতের মধ্যে ৫০ শতাংশ ঋণ দিতে হবে কটেজ, মাইক্রো, ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ব্যবসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পারবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সেবা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ এবং  ম্যানুফ্যাকচারিং এ সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা যাবে। তবে এসএমই ঋণের ১০ শতাংশের বেশি নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। আগামী ৫ বছরে এই হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এরিয়া অ্যাপ্রোচ ভিত্তিতেও সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে নারী উদ্যোক্তাদের। এরপরই গুরুত্ব দিতে হবে সমাজের পিছিয়ে পড়াদের। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুন অর্থায়ন স্কিমের আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টিকে জামানত হিসাবে বিবেচনা করে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে। নারীদের সেবা দেওয়ার জন্য নারী কর্মকর্তা নিয়েজিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রত্যেক শাখায় কমপক্ষে নতুনভাবে ৩ জন নারীকে ঋণ দিতে হবে। চলতি মূলধন ঋণ এক বছর মেয়াদি, মধ্যম মেয়াদি ৩ বছর এবং দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ সর্বোচ্চ ৫ বছর মেয়াদি হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসএমই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে নারী উদ্যোক্তাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তারপরই গুরুত্ব দিতে হবে উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল উদ্যোগ, তারপর আইসিটি খাত, এরপর আমদানি বিকল্প উদ্যোগ, এরপরই প্রাধান্য পাবে রফতানীমুখি উদ্যোগ এবং কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করতে হবে।

/জিএম/এমএনএইচ/