ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে উৎপাদিত মসুর ডালের মজুদ ফুরিয়েছে। পাশাপাশি রফতানিকারক দেশে উৎপাদন কমায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে ভালো মানের প্রতিকেজি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়। তবে ১৫-২০ দিন আগে ছিল ১১০-১১৫ টাকা। আমদানি করা বড় আকারের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা কেজিতে।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের চেয়ে বর্তমানে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। খুচরা বাজারে এর ব্যবধান ২০ থেকে ৩০ টাকা। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মুখপাত্র হুমায়ূন কবীর বলেন, বর্তমানে টিসিবির পণ্য তালিকায় মসুর ডাল নেই। এরই মধ্যে দুই হাজার টন ডাল আমদানির অর্ডার করা হয়েছে, যা দেশে এসে পৌঁছাতে আরও ১০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে। গুদামজাত ও অন্যান্য কাজ শেষে এ ডাল বাজারে আসতে আরও পাঁচ-ছয় দিন সময় লাগবে। খোলাবাজারের মাধ্যমে ডাল বাজারে এলে দাম কমে আসবে বলেও আশা করেন তিনি।
ডাল ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, দেশে যে পরিমাণ ডাল উৎপাদন হয়, তা দিয়ে তিন-চার মাসের বেশি চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। তবে কয়েক বছর ধরে দেশে মসুর ডালের দাম ভালো থাকায় ডালের উৎপাদন বেড়েছে।
মসুর ডালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশি ডালের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। তাই আমদানিকৃত ডাল দিয়ে বাজারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারেও এখন মসুর ডালের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। এক মাস আগে প্রতি টন মসুর ডালের দাম ছিল সাড়ে ৭শ ডলার থেকে ৮শ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়ে হয়েছে ১০৫০ ডলার থেকে ১১শ ডলার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা বছর দেশে মসুর ডালের চাহিদা তিন লাখ ৭৫ হাজার টন। আর কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে মসুর ডাল উৎপাদনের পরিমাণ দুই লাখ ২৪ হাজার টন। অবশিষ্ট চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্যটি আমদানি করা হয়।
মসুর ডালের দাম বাড়লেও অন্যান্য ডালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মুগডাল মানভেদে ১০০-১১০ টাকা। ছোলার ডাল ৮০-৮৫ টাকা ও বুটের ডাল (অ্যাঙ্কর) ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
/এসআই/ এমএনএইচ/