বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, ব্যাংক দুটির কোনও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নেই। বছরের পর বছর এই ব্যাংক দুটি লোকসান দিয়ে যাচ্ছে। এভাবে প্রতিষ্ঠান দুটি বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রোগ্রামে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে এই দুটি ব্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশের পর বিশ্বব্যাংক এই ধরণের মন্তব্য করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রোগ্রামে বিকেবি ও রাকাবকে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল সরকারের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। কিন্তু বিশ্বব্যাংক তাতে সম্মতি দেয়নি। বরং সংস্থাটি ব্যাংক দুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ব্যাংক দুটির প্রকৃত অবস্থা জানতে সবকিছু খতিয়ে দেখারও প্রস্তাব দিয়েছে। গত কয়েক বছরের আর্থিক অব্যবস্থাপনা, ঋণ অনিয়ম ও ভুল ঋণদান নীতির কারণে ব্যাংক দুটির অবস্থা এখন খুবই নাজুক।
উল্লেখ্য, ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রোগ্রামে গঠিত তহবিলের অর্থ ব্যবহারের জন্য এ পর্যন্ত ১৯টি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিকেবি ও রাকাব সরকারি সহায়তার কারণেই টিকে আছে। আসলে এগুলো কোনও ব্যাংক নয়। এ বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়কেও জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ প্রসঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রোগ্রামে বিকেবি ও রাকাবকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাংক রাজি হয়নি।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও বলছে, কয়েক বছর আগে বিকেবি মূল ব্যবসা থেকে দূরে সরে গেছে। কৃষকের বদলে বৈদেশিক বাণিজ্যে বেশি ঝুঁকে পড়েছিল ব্যাংকটি, যার খেসারত তারা এখন দিচ্ছে। এতে মুনাফা বাড়ার পরিবর্তে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে ব্যাংকটি। এ অবস্থায় ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
/এফএস/