দেশে সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সেবাপণ্য নির্মাতাদের সংগঠন বেসিসের (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস) নতুন সভাপতি হলেন রাসেল টি আহমেদ। ভোটে নির্বাচিত হয়ে দুই বছরের জন্য এই দায়িত্ব পেলেন তিনি। নতুন সভাপতি হিসেবে পরিকল্পনা, চ্যালেঞ্জ, ও অগ্রাধিকারে থাকা বিষয়গুলো জানিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনকে।
বাংলা ট্রিবিউন: এবার পুরনো সংগঠনে নতুন পদে। কেমন লাগছে?
রাসেল টি আহমেদ: এই পদে আগে ছিলাম না। খুশি না হওয়ার কারণ নেই। আমি আপ্লুত। বিশাল দায়িত্ব নিয়েছি। এখন সংগঠনের সদস্যদের জন্য যেন ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারি, ট্রেডবডি হিসেবে এটাকে যেন আরও শক্তিশালী করতে পারি—এটাই চাওয়া। আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিতে চাই। আমাদের কাজ করার আগ্রহ আছে, সেটা ধরে রাখতে চাই। আমাদের সক্ষমতা আছে। সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চাই এবং কমিটেড থাকতে চাই।
বাংলা ট্রিবিউন: সভাপতি হিসেবে প্রথমেই কোন কাজটা করতে চান?
রাসেল টি আহমেদ: এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। বেসিসের সঙ্গে সদস্যদের দূরত্ব হয়েছে। সেটা কমানোর চেষ্টা করবো। সদস্যদের মধ্যকার দূরত্ব কমানো ও তাদের কথাবার্তা শোনার কাজ এরই মধ্যে শুরু করেছি। কয়েকটি শক্তিশালী কমিটি করেছি। বিশেষায়িত কমিটিগুলো কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নিয়মিতভাবে কাজ করা হবে।
দুই বছরের মেয়াদে সাতশ’ দিনের কিছু বেশি পাবো। পুরো সময়কে সাত ভাগে ভাগ করে একশ’ দিনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। একশ’ দিন শেষ হলে পরবর্তী একশ’ দিনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। মূলত জবাবদিহির জন্যই এভাবে কাজ করা হচ্ছে। আমরা বেসিস সদস্যদের কাছে আমাদের কাজের জবাবদিহি করতে চাই।
বাংলা ট্রিবিউন: নতুন দায়িত্ব নিয়ে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে? বিশেষ করে সংগঠন ঢেলে সাজানোর ব্যাপারে?
রাসেল টি আহমেদ: আমরা যেসব কাজ করার ঘোষণা দিয়েছি সেগুলোই যেন করতে পারি। এটাই চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্য অর্জন ও পারফরমেন্সের দিকেই ফোকাসটা রাখতে চাই।
বাংলা ট্রিবিউন: বেসিস নিয়ে আপনার পরিকল্পনা জানতে চাই।
রাসেল টি আহমেদ: আমরা টপ-টেন পলিসি ঘোষণা করেছি। ট্যাক্স হলিডের মেয়াদ বাড়ানো, আয়কর সার্টিফিকেট পেতে বিলম্ব কমানোর উদ্যোগ, রফতানি প্রণোদনা (১০ শতাংশ) পেতে যে ৯০-১০০ দিন লেগে যায়, সেটা ৩০ দিনে আনার চেষ্টা করার মতো কিছু প্রায়োরিটি সেট করেছি। আপাতত এটাই পরিকল্পনা।
বাংলা ট্রিবিউন: সফটওয়্যার ও সেবাপণ্য রফতানিতে নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা করবে নতুন কমিটি?
রাসেল টি আহমেদ: বাজার সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। সেটা দেশি বা বিদেশি হোক। আমরা ইন্ডাস্ট্রি ব্র্যান্ডিং, ম্যাচমেকিং করতে চাই। প্রয়োজনে সম্ভাবনাময় দেশগুলোতে রোড-শো করা হবে। কিছু দেশ টার্গেট করে এগুবো। এরই মধ্যে জাপান ডেস্ক খোলা হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে ডেস্ক খোলা যায় কিনা সেটা নিয়ে পরিকল্পনা করবো। বাজার সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফরেন মিশন অফিসের সহযোগিতা নেবো। বেসিসের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বিআইটিএমকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এখানে সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ নিয়ে যেন দক্ষ কর্মী তৈরি করা যায় সেই বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৩০ কোটি ডলারের সফটওয়্যার ও সেবাপণ্য রফতানি করেছে। আপনার মেয়াদে রফতানির পরিমাণ কোথায় নিয়ে যেতে চান?
রাসেল টি আহমেদ: ২০২৪ সালে এই খাত থেকে সরকারের লক্ষ্য ৫০০ কোটি ডলার আয় করা। আমরা সরকারের সঙ্গে আছি। টার্গেট পূরণে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করবো। ২০২৪ সাল নয়, চেষ্টা করবো আমাদের মেয়াদেই এই লক্ষ্য পূরণের।
বাংলা ট্রিবিউন: ২০২২ সালের জন্য আইসিটি পণ্য ও সেবাকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বেসিস বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে? আপনাদের ভূমিকা কী হবে?
রাসেল টি আহমেদ: এই ঘোষণার মর্যাদা ধরে রাখতে বেসিস সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এ বছর। নতুন বাজার তৈরি, পণ্য ও সেবাপণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করা, সঠিক ব্র্যান্ডিং করা, মানবসম্পদ তৈরি করতে কাজ করবে বেসিস।
একনজরে রাসেল টি আহমেদ
২০১২-২০১৪ মেয়াদে বেসিসের মহাসচিব এবং ২০১৪-২০১৬ ও ২০১৬-২০১৮ মেয়াদে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠন এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্সের (অ্যাপিকটা) মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮-২০০৯ মেয়াদে আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) মহাসচিব ছিলেন।