দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি উন্নয়নে বিমসটেক রাষ্ট্রগুলোর অঙ্গীকার প্রয়োজন

দক্ষিণ এশিয়ার টেকসই জ্বালানি উন্নয়নে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) সরকার প্রধানদের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার নেওয়া জরুরি। রবিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিমসটেকের সেক্রেটারি তেনজিন লেকফেল এ মন্তব্য করেন।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের (আইবিসিসিআই) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিমসটেক এনার্জি কনক্লেভ’-এ ভারত, ভুটান ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এতে দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের জলবিদ্যুতের উৎস কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিমসটেক দেশগুলোর জন্য একটি কমন গ্রিড লাইন নির্মাণ এবং দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় জ্বালানি সহায়তা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিমসটেকের সেক্রেটারি জেনারেল তেনজিন লেকফেল বলেন, সাড়ে তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল ডিজিপি রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশগুলোর। পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বিমসটেক দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য একটি কমন গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুপারিশ রয়েছে। বিমসটেক রাষ্ট্রনায়কদের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিমসটেক জ্বালানি সঞ্চালন, জ্বালানির দর নির্ধারণ এবং জ্বালানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে সমন্বয় করে।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব এখন অনন্য উচ্চতায় রয়েছে। আমরা বাংলাদেশে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ (রামপাল কেন্দ্রে) উৎপাদনে বিনিয়োগ করেছি। একই সঙ্গে পাবনার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঞ্চালন লাইন নির্মাণে বিনিয়োগ করছি। পাশাপাশি জামালপুরে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ভারতের বিনিয়োগ, বাংলাদেশের কাছে ভারতীয় তেল পরিশোধনাগারের ১০ লাখ টন ডিজেল বিক্রির জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করেছি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ৭৬৫ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে।

ভুটানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জিগড্রেল ই. টিশেরিং বলেন, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে তার দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো দরকার। এ জন্য বিমসটেক ভূমিকা রাখতে পারে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়ে জানান, তার দেশও জলবিদ্যুৎ এবং তৃতীয় দেশে বিদ্যুৎ বিক্রিতে আগ্রহী। এ জন্য মিয়ানমার তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

সেমিনারের পর ভারতের দুটি প্রতিষ্ঠান ডিসান হাসপাতাল এবং গুরু কাশি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের বাণিজ্য সম্প্রসারণের আগ্রহের কথা জানায়। বাংলাদেশ সরকার অনুমোদন দিলে এই দুই প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশে শাখা স্থাপন করতে চায় বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আইবিসিসিআই চেয়ারম্যান মাতলুব আহমেদ ছাড়াও আইবিসিসিআই প্রতিনিধিরা অংশ নেন।