জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরি হওয়ার পর এই তথ্য গোপন রাখায় অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলমকেও বিষয়টি জানানো হয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ড. এম আসলাম।
রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করেন ড. এম আসলাম। বৈঠক শেষে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সোমবার ড. আতিউর রহমান ভারত থেকে ফেরার পর সন্ধ্যায় জরুরি ওই বোর্ডসভা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা যায়।
এর আগে দুপুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ৯ তারিখে একটি বোর্ডসভা হয়েছিল। সেখানে রিজার্ভের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সবদিক থেকে সক্রিয় ও সজাগ আছি।
তবে নতুন সদস্য বৈঠকে যোগ দেবেন কি না সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই মুখপাত্র।
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ফিলিপাইনের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে রিজার্ভের টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে এবং ব্যাংক যথাযথ নিয়ম না মেনেই এ কাজ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক যে তদন্ত দল নিয়োগ দিয়েছে তারা কাজ করছে বলে জানান শুভঙ্কর। আরও বলেন, তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম থেকে অর্থ স্থানান্তরের যে সংকেতলিপি (সুইফট কোড) ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের কাছে পাঠানো হয়েছিল, তা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকেরই কোড। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোড ব্যবহার করেই ১০১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরিত হয়ে যায় ফিলিপাইনে। শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে আরও ২০ মিলিয়ন ডলার সরানো হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।
/জিএম/এইচকে/