এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড.এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,অনেক দেশেই মন্ত্রী পর্যায়ে বা গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করার নজির আছে। বাংলাদেশেও এমন নজির আছে। রিজার্ভের টাকা চুরি হওয়ার পর গভর্নর পদ থেকে ড. আতিউর রহমান সরে দাঁড়ানোতে খুব বেশি উপকার হয়েছে এমনটি নয়, পদত্যাগ কোনও সমাধান নয়, সমাধান হচ্ছে- এ বিষয়ে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, তারা কী করবেন। কারণ, আগে জানতে হবে কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, কাদের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। যারা চুরির সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে হবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারে অবশ্যই সাজেশন দিয়ে যাবেন। তৃতীয় বিষয় হচ্ছে, চুরি যাওয়া সব টাকা ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু এখানেই শেষ নয়, যাদের কারণে হলমার্ক ঋণ কেলেঙ্কারিসহ অন্যান্য ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জাভের প্রায় ৮শ কোটি টাকা চুরি হওয়ার ঠিক একমাস ৯ দিন পর মঙ্গলবার পদত্যাগ করলেন ড. আতিউর রহমান।
প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম থেকে অর্থ স্থানান্তরের যে সংকেতলিপি (সুইফট কোড) ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের কাছে পাঠানো হয়েছিল, তা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকেরই কোড। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোড ব্যবহার করেই ১০১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরিত হয়ে যায় ফিলিপাইনে। শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে আরও ২০ মিলিয়ন ডলার সরানো হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আতিউর রহমানের পদত্যাগ কোনও সমাধান নয়। সবার আগে তদন্ত করে বের করতে হবে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। এ কারণে আগে জানতে হবে কারা এই ঘটনা ঘটালো। তাদের উদ্দেশ্যই বা কি ছিল। এইগুলো বের করতে হবে। তিনি বলেন, পদত্যাগ কোনও সমাধান নয়। টাকা গেছে মাত্র সাড়ে ৫শ কোটি। এর মধ্যে তো ২৬৫ কোটি টাকা ফেরত আনা গেছে। কিন্তু চার হাজার কোটি টাকা যখন গেলো তখন অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ৪ হাজার কোটি টাকা কোনও টাকাই না। সেই হিসাবে টাকার অংকে ঘটনা বেশি বড় নয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এইটা হবে কেন? ফিলিপাইনে চলে যাওয়া টাকা ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্ত কমিটিগুলোকে সঠিকভাবে তদন্ত করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তদন্ত ছাড়া কাউকে সরিয়ে দেওয়া (ফায়ার)ঠিক নয়। অর্থমন্ত্রীও তো জানেন না কে দায়ী। এছাড়া থানায় যে মামলা হয়েছে, সেখানে অজানা লোককে আসামি করা হয়েছে। তার মানে-সরকারও জানে না কে দায়ী।
এমএসএম/এএইচ/