চিঠিতে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কী ধরনের কাগজপত্র তৈরি করতে হবে সে বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে। মানি লন্ডারিং আইনের পাশাপাশি অন্যান্য যেসব আইন দেখতে হবে সে বিষয়েও পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ‘অর্থ ফেরত আনা সম্ভব’ বলে মন্তব্য করার পরদিনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই চিঠি দিল। এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের তৎপরতা ও সহযোগিতার কারণে আরাফাত রহমান কোকোর বিদেশে পাচার করা প্রায় সাড়ে ২১ কোটি টাকা ফেরত আনা সম্ভব হয়।
রির্জাভের টাকা চুরির বিষয়ে বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশের কারা জড়িত তা শনাক্ত করা গেলেই টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি জানান, আন্তঃদেশীয় আইনি সহায়তার মাধ্যমে, ওই অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে পারে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়। তবে তার আগে অর্থ ফ্রিজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, দুটি উপায়ে রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব। এ জন্য প্রথমে দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে, এ ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশি কারা জড়িত। এরপর আন্তঃদেশীয় আইনি সহায়তায় টাকা ফেরাতে কাজ শুরু করতে পারে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়। টাকাগুলো কোথায় রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া গেলে ফ্রিজ করে দেওয়ার আবেদনও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রের দাবি, অ্যার্টানি জেনারেল অফিস, দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন বিভাগকেও বলা হয়েছে ঘটনাটির আইনগত সুবিধা বের করার জন্য। এজন্য ব্যাংকের আইন শাখা আর্থিক লেনদেনের চুক্তিপত্রগুলোর বিভিন্ন ধাপ ও শর্ত খতিয়ে দেখছে এবং চিহ্নিত করছে লেনদেনের প্রক্রিয়ার ত্রুটি। এর বাইরে প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হক কিউসিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হক কিউসিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আইনানুগ বিষয়গুলোকে অ্যাসেস করবেন।
এদিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তরের আদেশ প্রক্রিয়াটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রক্রিয়ায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কিছু দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যর তালিকা তৈরি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে ফেডারেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজি হাসান বলেছিলেন, ফেডারেল রিজার্ভ থেকে সুইফটের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরে বেশ কিছু টার্ম অ্যান্ড কন্ডিশন থাকে। সে বিষয়গুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। তারপরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না তা লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্সের মাধ্যমে ভেবে দেখা হবে।
এদিকে নতুন গভর্নর ফজলে কবির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যোগদানের পর থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে একাধিকবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। সরকারের শীর্ষ মহল থেকেও চুরি হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় পদত্যাগ করেন ড. আতিউর রহমান। নতুন গভর্নর ফজলে কবির দায়িত্ব নেওয়ার পরই ঘোষণা করেছেন, আগে অর্থ উদ্ধার। পাশাপাশি আইটি খাতকে আরও নিরাপদ করা হবে।
এদিকে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য নিউইয়র্কের এক আইনজীবী ঠিক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থ চুরির ঘটনায় গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছে। এর পরেই নিউইয়র্ক ফেড দাবি করে, তাদের সিস্টেমে কোনও ত্রুটি দেখা যায়নি। আদেশ দেওয়ার পরে নিয়ম মেনেই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।
/এজে/