খসড়া মার্জিন ঋণ নীতিমালা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

পুঁজিবাজারে প্রস্তাবিত খসড়া মার্জিন ঋণ নীতিমালা নিয়ে ধোঁয়াশা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, এই নীতিমালা চূড়ান্ত হলে বাজারে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। ফলে খসড়া বিধিমালা প্রত্যাহার করে বিদ্যমান নিয়মকে আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীতে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনায় বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) নেতারা বিনিয়োগকারীদের পক্ষে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

পি/ই অনুপাতের সীমা নিয়ে আপত্তি

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, খসড়া নীতিমালায় পি/ই অনুপাতের সীমাবদ্ধতা অযৌক্তিক। ইতোমধ্যে পি/ই অনুপাত ৪০ থেকে কমিয়ে ৩০ করা হয়েছে, যা ঝুঁকি কমিয়েছে। তবে লোকসানি বা অনিয়মিত কোম্পানির কারণে পুরো সেক্টরের পি/ই অনুপাত বিকৃত হয়। এতে ভালো মৌলভিত্তির লার্জ ক্যাপ শেয়ারের জন্য এটি অন্যায্য হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের মতো কম পি/ই যুক্ত সেক্টরে বিধানটি অতি কঠোর হয়ে যায়। অপরদিকে প্রবৃদ্ধিশীল কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও এটি ভুল বিচার তৈরি করছে।

জোরপূর্বক বিক্রির বিধান শিথিলের দাবি

খসড়ায় বলা হয়েছে, যদি কোনও মার্জিন অ্যাকাউন্টের ‘এ’ বা ‘এন’ ক্যাটাগরির শেয়ার পরবর্তীতে ‘বি’ বা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে যায়, তবে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তা বিক্রি করতে হবে বা অ্যাকাউন্ট ক্যাশে রূপান্তর করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, এতে বাজারে হঠাৎ প্রচণ্ড বিক্রয়চাপ তৈরি হতে পারে, এমনকি ট্রেডিং স্থগিত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তারা কমপক্ষে তিন মাসের একটি সমন্বয়কাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।

ঋণ-মালিকানা সত্ত্ব অনুপাত

খসড়ায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির সম্মিলিত বাজারমূলধন যদি পরিশোধিত মূলধনের ৭ গুণ বা তার বেশি হয়, তবে ঋণ-মালিকানা সত্ত্ব অনুপাত সর্বোচ্চ ১০০.৫-এ সীমিত থাকবে। বিনিয়োগকারীদের মতে, এতে বাজার একটি সীমিত গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে তারল্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া বাজার মধ্যস্থতাকারীরা ইতোমধ্যেই ঝুঁকি-ভিত্তিক নীতি অনুসরণ করছে।

অর্থায়ন সীমা নিয়ে শঙ্কা

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, কোনও বাজার মধ্যস্থতাকারী তার নিজস্ব নিট সম্পদ বা মূল মূলধনের তিন গুণের বেশি ঋণ দিতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে বিসিএমআইএ নেতারা বলেন, ‘অধিকাংশ মধ্যস্থতাকারী লোকসান ও নেগেটিভ ইকুইটির কারণে দুর্বল অবস্থায় আছে। এ বিধান কার্যকর হলে মার্জিন ঋণ প্রদানের সক্ষমতা আরও সংকুচিত হবে।’

অন্যান্য সুপারিশ

  • বিনিয়োগকারীদের সম্মতি ছাড়া কোনও কোম্পানিকে ডিলিস্টেড না করার দাবি।
  • মিউচুয়াল ফান্ডের অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় সম্পদ ব্যবস্থাপকদের ওপর বর্তানোর আহ্বান।
  • কোনও ফান্ড লিকুইডেশন হলে তিন মাসের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি।
  • ভুল আর্থিক বিবরণী (ইপিএস, ন্যাভ, ক্যাশফ্লো) দেওয়া হলে ফরেনসিক অডিট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব।
  • এসএমই মার্কেটে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগের বৈষম্য দূর করে মূল বাজারের মতো লেনদেনের সুযোগ দেওয়া এবং যোগ্য কোম্পানিগুলোকে মার্জিন লোন সুবিধার আওতায় আনার আহ্বান।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালা হুবহু কার্যকর হলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত খসড়া বিধিমালা প্রত্যাহার করে বাস্তবসম্মত ও আধুনিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।