চট্টগ্রামে অবৈধ পণ্য খালাস রোধে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুই কাস্টমস কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খাঁন বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ডবলমুরিং মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
পরে রাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে দাফতরিক কাজে কাস্টমস গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে নিজ অফিসে ফেরার পথে সিডিএ আবাসিক এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন জন অজ্ঞাতনামা হামলাকারী তাদের বহনকারী গাড়ির গতিরোধ করেন। এক পর্যায়ে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে গাড়িতে আঘাত করা হয় এবং লাথি মেরে বাম পাশের কাচ ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা ‘গুলো কর, গুলো কর’ বলে চিৎকার করতে থাকে। জীবন বাঁচাতে কর্মকর্তারা দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সরে যান।
এনবিআর মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কঠোর নিবারক কার্যক্রমের ফলেই এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা সম্প্রতি প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের আমদানি নিষিদ্ধ পপি সিড ও ঘনচিনি আটক করেন। চলতি বছরের মে মাসে প্রায় ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ সিগারেটের একটি বড় চালান জব্দ করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আনা কসমেটিকস পণ্যের চালান আটক করায় একটি চক্র ক্ষুব্ধ হয়। এই ঘটনার পর ৫ অক্টোবর বিকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এনবিআর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান, শুল্ক ফাঁকি এবং অসত্য ঘোষণার মাধ্যমে আমদানি প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ওপর এ ধরনের বর্বর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন—তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এনবিআর দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছে—সৎ, নিষ্ঠাবান এবং পেশাদার রাজস্ব কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।