ভারতে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ শুক্রবার মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম আইবোবি সিংয়ের সঙ্গে তার কার্যালয়ে একান্ত বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনার সময় তিনি এ সব কথা বলেন।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনতে অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য ছাড়া সব পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশকে ডিউটি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা দিয়েছে। ভারত সরকার কিছু ক্ষেত্রে কাউন্টার ভেলিং ডিউটি (সিভিডি) আরোপের কারণে আশানুরূপ পণ্য রফতানি হচ্ছে না। আশা করা হচ্ছে উভয় দেশের আলোচনার মাধ্যমে এ ধরনের ডিউটি সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। মনিপুর বাংলাদেশের তৈরি উন্নতমানের পণ্য কম খরচে নিতে পারবে। বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলে উভয় দেশ উপকৃত হবে।
মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এ সময় বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে মনিপুরে। বাংলাদেশের পণ্য মনিপুরে এলে মানুষ ভালোমানের পণ্য সুলভমূল্যে পাবে। এ জন্য দুদেশের ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে। মনিপুর বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আগ্রহী। উভয় দেশের সরকার ও ব্যবসায়ীরা আন্তরিক হলে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার সড়ক যোগাযোগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে যানবাহন চলাচল শুরু করলে এ অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ভারতের নর্থ-ইস্ট রিজিয়নে বাংলাদেশের পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তখন উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয়ে মনিপুর রাজ্য সরকার এবং ব্যবসায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ মনিপুরের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় সবধরনের উদ্যোগ নেবে।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরেন। মনিপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধিও সুবিধার্থে মনিপুর চেম্বার এবং বাংলাদেশের এফবিসিসিআইএর মধ্যে একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এ সময় মনিপুর রাজ্যের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী গোভিনদাস কনথোজাম, মনিপুর চেম্বারের কর্মকর্তা এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সফররত বাংলাদেশের এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট আব্দুল মতলুব আহমাদসহ প্রতিনিধি দলের সমস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
/এসআই/এমএনএইচ/