দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর, প্রতিযোগিতামূলক এবং টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিআইটিএমএ) আয়োজনের জন্য দুই সংগঠন সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিটিএমএ’র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইভেন্ট আয়োজকের সহযোগিতায় একটি বিশ্বমানের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের যন্ত্রপাতি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এতে আধুনিক অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং টেকসই ফ্যাশন প্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এবং ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিটিএমএ ও বিজিএমইএ’র শীর্ষ নেতৃত্ব, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সাবেক সভাপতি, শিল্প উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি ও নিউ এশিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. মতিন চৌধুরী, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), বিটিএমএর সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন এবং বিজিএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রদর্শনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ১০ সদস্যের একটি যৌথ অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে বিটিএমএ ও বিজিএমইএ’র পাঁচজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রতি বছর দুই সংগঠনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হবে। প্রথম বছরে চেয়ারম্যান হবে বিটিএমএ এবং কো-চেয়ারম্যান হবে বিজিএমইএ থেকে।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্বব্যাপী পোশাক শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ঘটছে। এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে বিটিএমএ ও বিজিএমইএ’র যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে দেশের সক্ষমতা আরও বাড়বে।
বিটিএমএ’র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্প একে অপরের পরিপূরক। এই সমঝোতা শুধু একটি প্রদর্শনী আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রযুক্তিগত রূপান্তর, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই যৌথ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।