মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে চলমান মামলা পরিচালনায় নিয়োজিত মার্কিন আইনি প্রতিষ্ঠান কোজেন ও'কনর-এর সঙ্গে আইনি সহায়তা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে মামলা পরিচালনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ জন্য বাংলাদেশি আইনি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্ড লিগ্যাল কনসালট্যান্টস (বিএসএনকে) এবং যুক্তরাজ্যের আইনি প্রতিষ্ঠান কিস্টোন ল-এর সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সদস্যদের সম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

সভায় রিজার্ভ চুরির মামলায় ইতিপূর্বে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য কোজেন ও’কনর-এর পাওনা বিল পরিশোধের বিষয়েও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বিদ্যমান আইনি সহায়তা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০১৬ সালে রিজার্ভ চুরি

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে হ্যাকাররা প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে নেয়। এর মধ্যে প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়। আরও ২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। তবে অর্থ পাঠানোর সময় নামের বানানে ভুল থাকায় শ্রীলঙ্কায় পাঠানো অর্থের লেনদেন আটকে যায়।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। তবে চুরি যাওয়া অর্থের বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করে। মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছিল কোজেন ও'কনর।

সংশ্লিষ্ট নথি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কোজেন ও’কনর-এর সঙ্গে চুক্তি বাতিল হলেও যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মামলার আইনি কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। বিএসএনকে ও কিস্টোন ল মামলাটি পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংককে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কোজেন ও’কনর রিজার্ভ চুরির মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংককে অতিরিক্ত আইনি সহায়তা দিয়ে আসছিল। বর্তমানে তাদের সহায়তার প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়ায় চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তবে অন্য আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম চলবে।

তিনি বলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ফলে মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে রায় পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, চুরি হওয়া অর্থের অর্ধেক দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়ে প্রতিপক্ষের একটি পক্ষ এর আগে আলোচনা করার চেষ্টা করেছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাতে রাজি হয়নি। চুরি হওয়া পুরো অর্থের সঙ্গে সুদও দাবি করা হয়েছে।