স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ হাইকমিশন। এলডিসি উত্তরণের পর তিন বছরের ট্রানজিশন পিরিয়ডেও বর্তমান বাণিজ্য সুবিধা অপরিবর্তিত থাকবে। এরপরও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) শিন শিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ভ্যানকট লিমিটেড পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান। এ সময় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, টেকসই উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শিন শিন গ্রুপের কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়।
জেমস গোল্ডম্যান বলেন, যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কাউন্ট্রিস ট্রেডিং স্কিমের (ডিসিটিএস) আওতায় বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রফতানি করা ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর তিন বছরের ট্রানজিশন পিরিয়ডেও এই সুবিধা একইভাবে অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ট্রানজিশন পিরিয়ড শেষে বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশ করতে পারবে। এর মধ্যে তৈরি পোশাকও রয়েছে।
ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার বলেন, এই সুবিধা বাংলাদেশের ব্যবসায়ী এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক অংশীদারদের জন্য বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নিশ্চিততা তৈরি করবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রফতানিকারকদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামী দিনগুলোতেও এই শক্তিশালী বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখতে আমরা আগ্রহী।’
তৈরি পোশাক ও টেকসই উৎপাদনে গুরুত্ব
ভ্যানকট লিমিটেড পরিদর্শনের সময় শিন শিন গ্রুপের পক্ষ থেকে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম, কর্মপরিবেশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে ব্রিটিশ প্রতিনিধি দলকে অবহিত করা হয়।
এ সময় অটোমেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সামাজিক ও পরিবেশগত মানোন্নয়নে গ্রুপটির বিভিন্ন বিনিয়োগের বিষয় তুলে ধরা হয়।
শিন শিন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহেল সাদাত বলেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি দলকে ভ্যানকট লিমিটেডে স্বাগত জানাতে পেরে তারা আনন্দিত। উৎপাদন কার্যক্রম, কর্মপরিবেশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগের প্রতি ব্রিটিশ প্রতিনিধি দলের আগ্রহকে স্বাগত জানান তিনি।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য শিন শিন গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রফতানি বাজার। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনের বার্তা বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রিটিশ প্রতিনিধি দলে যারা ছিলেন
ভ্যানকট লিমিটেড পরিদর্শনে ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যানের সঙ্গে ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডিরেক্টর, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সাকিব এরশাদ, হেড অব কমিউনিকেশনস সাজিদ হাসান এবং প্রাইমার্কের কান্ট্রি প্রজেক্ট ম্যানেজার নীলাঞ্জনা খান।
শিন শিন গ্রুপের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টর (ফাইন্যান্স, হিউম্যান অ্যাসেটস অ্যান্ড কালচার) মিফ্রায়ে মোস্তারি সাদাত, ডিরেক্টর (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অপারেশনস) শাহিদ সাদাত এবং অ্যাডভাইজার (পিপল অ্যান্ড কালচার) জাহিদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পর যুক্তরাজ্যের বাজারে বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ভবিষ্যতে সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে শিন শিন গ্রুপ।