দেশের সব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে এক ছাতার নিচে আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনও নতুন আলাদা ভাতার কার্ড নয়। বরং সরকারের বিভিন্ন খাতে চালু থাকা একাধিক কার্ডকে একত্রিত করে একটি একক কার্ড বানানোর উদ্যোগ এটি। অর্থাৎ একজন নাগরিক বা পরিবারের জন্য বিভিন্ন সুবিধা পেতে আলাদা আলাদা ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি সমন্বিত কার্ড ব্যবহারের ধারণাই হলো ইউনিভার্সাল কার্ড।
যেসব কার্ড ও সুবিধা এই একক কার্ডে একীভূত করার কথা বলা হচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও হেলথ কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী সুবিধা।
কেন এই উদ্যোগ?
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করা। বিভিন্ন কার্ড আলাদা থাকলে সুবিধাভোগীদের একাধিক জায়গায় ধরনা দিতে হয়, দুর্নীতি ও জটিলতার সুযোগ থাকে। একক কার্ডে সব সুবিধা একত্রিত করলে প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে।
এর আগে গত জুলাই মাসে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনেও তিনি পর্যায়ক্রমে সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, “সবগুলোকে একসময় আমরা একটি কার্ডের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। সে জন্যই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি পর্যায়ক্রমিকভাবে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানির কার্ড- সবকিছু আমরা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ নামে একটি কার্ডের ভেতরেই নিয়ে আসব।”
কবে থেকে পাওয়া যাবে?
এই কার্ড এখনও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। কখন চালু হবে, কীভাবে কাজ করবে, কী কী সুবিধা একত্রিত হবে; এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি। সরকার বলছে, এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ভবিষ্যতে কখন আবার নতুন কোনও বৈশ্বিক আর্থিক ধাক্কা বা অর্থনৈতিক সংকট আসতে পারে। কিন্তু আমরা এমন সঠিক নীতি প্রণয়ন করে প্রস্তুত থাকতে পারি, যা প্রতিটি পেশার প্রতিটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটাতে পারে। নারীদের সুরক্ষায় আমাদের রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, যা প্রতিটি পরিবার ও প্রতিটি মায়ের ভাগ্য পরিবর্তন করবে। কৃষকদের জন্য রয়েছে ‘ফার্মার কার্ড’। দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা ‘হেলথ কার্ড’ চালুর চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছি। মূলত আমরা একটি সমন্বিত ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষা প্রদান করা হবে।