আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বৈঠকস্থলের কাছে বিক্ষোভ, পুলিশের বাধা

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক বৈঠকস্থলের কাছে বিক্ষোভ করেছেন প্রায় ৬০০ মানুষ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে বিক্ষোভকারীরা কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নীতিতে বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বড় প্রকল্পগুলো বেশি সুবিধা পায়। অপরদিকে এসব প্রকল্পের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে এবং সরকারি ঋণের বোঝা গভীর হচ্ছে।

‘দ্য পিপলস নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট দ্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক অ্যান্ড আইএমএফ’ নামের একটি সংগঠনের প্রায় ৬০০ সদস্য সকাল ৮টার দিকে কাস্টমস বিভাগের কাছের একটি মোড়ে জড়ো হন। পরে তারা সানথর্ন খোসা সড়ক ধরে পাঁচমুখী না রানং মোড়ের দিকে মিছিল নিয়ে যান। সেখান থেকে রামা চত্বরের দিকে অগ্রসর হলে সম্মেলনকেন্দ্রের কাছাকাছি পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

সম্মেলনকেন্দ্রের সামনে রাচাদাফিসেক সড়কের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। পরে পুলিশের সঙ্গে আলোচনার পর বিক্ষোভকারীরা কাছাকাছি নির্ধারিত একটি স্থানে সরে যেতে রাজি হন।

বড় প্রকল্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

বিক্ষোভের প্রতিনিধি ৫০ বছর বয়সী সুপাপর্ন মালাইলয় বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করার পরিকল্পনা করেছেন। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চান তারা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সমর্থন পাওয়া অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং তাদের জীবিকার ক্ষতি করছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের ইস্টার্ন ইকোনমিক করিডরের মতো বড় প্রকল্পের বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, থাই সরকার বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দিতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি এবং জনগণের ঋণের বোঝা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিক্ষোভকারীরা বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, উন্নয়নের সুফল কারা পাচ্ছে এবং এর মূল্য কাদের দিতে হচ্ছে, সেই প্রশ্ন আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

বিক্ষোভ চলাকালে পথচারীদের ব্যবহৃত একটি উড়ালসড়কে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠককে ঘিরে এই বিক্ষোভে উন্নয়ন অর্থায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বড় প্রকল্পের সামাজিক প্রভাব নিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ সামনে এসেছে।