বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির সিনিয়র নেতারা প্রশ্ন রেখেছেন, এই বিলাসী বাজেট বাস্তবায়নই হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে সরকার বিদেশি দাতাগোষ্ঠী, ব্যাংক বা দেশের অভ্যন্তরে ব্যাংক থেকে সহায়তা চাইতে পারে। কিন্তু এর মূল চাপ মূলত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। এ কারণে বাজেট স্বপ্নবিলাসী হলেও মানুষের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান বলেন, বাজেট নিয়ে পর্যালোচনা করিনি। তবে যতটুকু শুনেছি, তাতে মনে হয়েছে অবাস্তবায়নযোগ্য বাজেট। সাধারণ মানুষের কথা ভাবাই হয়নি।
লে.জে. অব. মাহবুব বলেন, নিঃসন্দেহে ঢাউস বাজেট। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে- এই বাজেট কল্পনাবিলাসী ও লুটপাট সহায়ক বাজেট। বাজেটের টাকা কোত্থেকে আসবে। বিদেশি ব্যাংক, দাতাগোষ্ঠী নাকি দেশীয় কোনও ব্যাংক থেকে। কিন্তু এই অর্থের চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। সাধারণ মানুষ সাংঘাতিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। এই বাজেট- এর মাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে। ভালো বাজেট সেটাই, যেই বাজেটে স্বস্তি আছে।
মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করেন, দেশে শিল্পায়ান হচ্ছে না। এই শিল্পায়ন না হলে তো বাজেট বিশাল করে লাভ নেই।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, অবৈধ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা বেশি বেশি লুটপাট করে পকেট ভরার জন্যই এই বাজেট।
তিনি বলেন, যে সরকারের কোনও বৈধতা নেই, সেই সরকার আবার কিসের বাজেট ঘোষণা করছে। এটা শুধু মন্ত্রী-এমপিদের লুটপাট করে পকেট ভরার বাজেট ঘোষণা করছেন অর্থমন্ত্রী।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ‘প্রবৃদ্ধি সঞ্চারে নতুন মাত্রা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নতুন বছরের জন্য ৭ দশমিত ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে সম্ভাব্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। বাজেটের এই পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বাজেট প্রস্তাবনার ভিত্তি পুঁজিবাদের নতুন দর্শন। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির যুক্তি উপস্থাপন করে দরিদ্র জনগণের সম্পদ অল্প কিছু লুটেরা-ধনিকের হাতে নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঘোষিত বাজেট কথার ফুলঝুরি ও অসত্য আশ্বাসে পরিপূর্ণ।
২০১৬-১৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়া সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট ধনিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করবে- এমন দাবি করে তারা বলেন, বাজেটের অর্থের বেশির ভাগ খরচ হবে পূর্বেকার ঋণ পরিশোধ, বিলাস দ্রব্য আমদানি, অপচয়, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন প্রকারের সিস্টেম লস, কর-রেয়াতের নামে ধনিক শ্রেণিকে বিশাল ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি কাজে। এই সব কিছুই হলো ধনিক ও লুটেরা শ্রেণির স্বার্থে গ্রহণ করা সরকারের পদক্ষেপ।
/এসটিএস/এএইচ/
আরও খবর পড়ুন-