উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় কৃষক ও কৃষিভিত্তিক শিল্প উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ বা মুনাফায় ঋণ দেওয়া হবে।
কৃষিপণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও রফতানি—পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও মূল্য সংযোজন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ সেপ্টেম্বরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তহবিলের আওতায় একজন গ্রাহক কৃষি উৎপাদন খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা এবং কৃষিজাত বা কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতেও সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে। আর কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানির জন্য সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে।
তহবিলটির মেয়াদ হবে সার্কুলার জারির তারিখ থেকে তিন বছর। এর কার্যক্রম রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, উত্তরবঙ্গে পর্যাপ্ত হিমাগার, আধুনিক সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্যের একটি অংশ নষ্ট হয়। আবার অনেক কৃষক সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় উৎপাদিত পণ্য কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন।
নতুন তহবিলের অর্থে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিমাগার, বীজ সংরক্ষণাগার, গুদাম, খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার বা সাইলো, শীতল পরিবহন ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প, কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রফতানিমুখী কার্যক্রমেও অর্থায়ন করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এ উদ্যোগের ফলে কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন বাড়বে, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ হবে এবং উত্তরবঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের অপচয় কমিয়ে রফতানি সক্ষমতা বাড়াতেও তহবিলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে গত ৬ জুলাই এ তহবিল গঠনের বিষয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ৩ হাজার কোটি টাকার এই পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহী ৩৮টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ।