কেসিসির বাজেটে বাড়ছে না হোল্ডিং ট্যাক্স

KCCখুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের বাজেটে নগরবাসীর ওপর নতুন করের বোঝা চাপানো হচ্ছে না। বাড়ানো হচ্ছে না কোনও ধরনের হোল্ডিং ট্যাক্সও। তবে গড়ে ওঠা নতুন ইমারত, ইমারতের সম্প্রসারিত (বর্ধিত) অংশ, ঋণসংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রদেয় করের হার অসাঞ্জস্য হলেই কেবল সংশ্লিষ্ট ভবনের ওপর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্স বসানো হবে বলে জানিয়েছেন কেসিসি’র ভারপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তা মো. অহিদুজ্জামান ।
এদিকে, নগরীতে গড়ে প্রতিদিন ৫টি করে নতুন ইমারত (বাড়ি-ভবন) গড়ে উঠছে। এভাবে প্রতি মাসে ১৬৭টি এবং বছরে এর সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন ভবন গড়ে উঠছে।
চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী প্রতিটি হোল্ডিং এর বিপরীতে নগরবাসীর ট্যাক্সের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ২৭ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে হোল্ডিং ট্যাক্স ৭ শতাংশ, কনজারভেন্সি (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা-ড্রেনেজ ব্যবস্থা) ৭ শতাংশ, স্বাস্থ্য ৮ শতাংশ এবং লাইটিং (সড়ক বাতি) এর জন্য ৫ শতাংশ। কিন্তু কেসিসি কর্তৃপক্ষ নগরবাসীর সুবিধার বিষয়টি মাথায় রেখে ২৭ শতাংশের স্থলে ১৬ শতাংশ ট্যাক্স আদায় করছেন।

কেসিসি’র বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার (বি.এ.ও) কে এম মুশতাক আহমেদ বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স কেসিসি নির্ধারণ করে না। এটি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এলজিইডি) থেকে নির্ধারণ করা হয়। কেসিসির ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের বাজেটে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনও নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সেই কারণে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা  হবে।

কেসিসি’র হোল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট এবং রাজস্ব শাখা সূত্র জানায়, ১৯৮৬ সালের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রতিটি হোল্ডিং এর বিপরীতে নগরবাসীর ট্যাক্সের পরিমাণ ছিল মোট ২১ শতাংশ। যার মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স ছিল ৭ শতাংশ, কনজারভেন্সি (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা-ড্রেনেজ ব্যবস্থা) ৭ শতাংশ, পানি সরবরাহ বাবদ ৪ শতাংশ এবং লাইটিং (সড়ক বাতি) এর জন্য ৩ শতাংশ। এই হার অনুযায়ী কেসিসি কর্তৃপক্ষ হোল্ডিং মালিকদের কাছ থেকে কর আদায় করতেন। কিন্তু  ২০০৮ সালে খুলনা ওয়াসা সৃষ্টির পর থেকে পানি বিভাগ আলাদা হওয়ায় পানি সরবরাহ বাবদ ৪ শতাংশ ট্যাক্স আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভারপ্রাপ্ত কালেক্টর অব ট্যাক্সেস তপন কুমার নন্দী জানান, চলতি অর্থ বছরের রেকর্ড অনুযায়ী কেসিসি এলাকায় বর্তমান হোল্ডিং সংখ্যা ৬৬ হাজার ৪৬৯টি। তবে তথ্য বিভ্রাটের কারণে এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজারের মতো হোল্ডিং নম্বর ডাবল এবং কিছু হোল্ডিংয়ের কোনও অস্তিত্ব নেই। যে কারণে সরেজমিন পরিদর্শন করে ডাবল হোল্ডিং এর জটিলতা নিরসন এবং অস্তিত্বহীন হোল্ডিং বাতিল করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, খুলনা শহর ১৮৮৪ সালের ১২ ডিসেম্বর পৌরসভা, ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং ১৯৯০ সালের ৬ আগস্ট সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। বর্তমানে এ শহরের আয়তন ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গ কিলোমিটার (১৭৬২ বর্গমাইল)। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৫ লাখ অধিবাসীর বসবাস।

/জেবি/টিএন/আপ-এআর/