২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের কাছে নন-কটন পোশাক রফতানির ওপর ১০ শতাংশ (রফতানি মূল্যের) হারে বিশেষ প্রণোদনা চায় তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) বিজিএমইএ উত্তরা কার্যালয়ে পোশাক শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসান।
লিখিত বক্তব্যে ফারুক হাসান রফতানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ কার্যকরের নীতি সহায়তা চান।
তিনি উল্লেখ করেন, রফতানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর ১.০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে পূর্বের ন্যায় ০.৫০ শতাংশ করে আগামী ৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর করা। এটি করা হলে উদ্যোক্তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মধ্যমেয়াদি ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবেন।
এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের এসেসমেন্টের সময় কর আরোপকালে অন্যান্য আয়, যেমন- Gain on Assets Disposal, Sub-contract Income এবং বিবিধ খরচকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য করে স্বাভাবিক হারে (৩০ শতাংশ) কর আরোপ না করে করপোরেট কর হার ১২ শতাংশ হারে আরোপ করা।
একইভাবে তৈরি পোশাক শিল্পের সাব-কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশের রুল-১৬ এর টেবিল-১ এর আওতায় সাব-কন্ট্রাক্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান চুক্তির মূল্য পরিশোধের সময় প্রস্তাবিত ধাপ অনুযায়ী উৎসে কর ধার্য করা, উক্ত করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করা, অন্যথায় এসেসমেন্টের সময় কর আরোপকালে করপোরেট ট্যাক্স হার ১২ শতাংশ হারে ধার্য করা।
তিনি বলেন, রফতানি বাণিজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানিকারকদের ERQ (Exporter Retention Quants Fund) থেকে রফতানির প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য পরিশোধিত ফি হতে উৎসে আয়কর কর্তনের হার ২০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ১০ শতাংশ করা। একইভাবে, তৈরি পোশাক রফতানিতে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার করা। যেহেতু নগদ সহায়তা কোনও ব্যবসায়িক আয় নয়, তাই নগদ সহায়তার অর্থকে করের আওতার বাইরে রাখাই যুক্তিসঙ্গত।
তিনি বলেন, বিগত চার দশকে আমাদের তৈরি পোশাক রফতানি ৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছলেও আমাদের পণ্যের ম্যাটেরিয়াল ডাইভারসিফিকেশ তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের রফতানি অনুযায়ী আমাদের মোট পোশাক রফতানির প্রায় ৭৩ শতাংশ ছিল কটনের তৈরি, যা ১৩ বছর পূর্বে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ৬৯ শতাংশ, অর্থাৎ বিগত ১০ বছরে আমাদের শিল্পটির কটন নির্ভরতা বেড়েছে, যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নন-কটন পোশাকের রফতানি প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। বর্তমান বিশ্বে ভোক্তাদের ক্রমাগত জীবন-যাত্রার পরিবর্তন এবং টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে নন-কটন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। যেখানে বিশ্বে টেক্সটাইল কনজাম্পশনের প্রায় ৭৫ শতাংশই নন-কটন এবং কটনের শেয়ার মাত্র ২৫ শতাংশ; বর্তমানে বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যের ৫২ শতাংশ পণ্য নন-কটনের, সেখানে আমাদের নন-কটন পোশাকের রফতানি মাত্র ২৬ শতাংশ।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, নন-কটন পণ্যের বৈশ্বিক বাজার এবং আমাদের রফতানি সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে এ খাতে বিনিয়োগ ও রফতানি উৎসাহিত করতে প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে নন-কটন পোশাক রফতানির ওপর ১০ শতাংশ (রফতানি মূল্যের) হারে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।