যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি

নোটিশ দিয়ে বের হয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশ 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’-এর ফলে দেশের মোট রফতানির প্রায় ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ পণ্যই এখন ‘শূন্য শুল্ক’ সুবিধায় প্রবেশের সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। 

চুক্তির স্বচ্ছতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “চুক্তিতে একটি বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। যদি ভবিষ্যতে কোনও সরকার মনে করে এই চুক্তি দেশের স্বার্থের অনুকূল নয়, তবে তারা উপযুক্ত নোটিশ দিয়ে এই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। ফলে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ার কোনও সুযোগ এখানে নেই।” 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা এই চুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তির মাধ্যমে দুটি বড় লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ৮৬ শতাংশ গার্মেন্টস পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তুলা ব্যবহার করলে ‘শূন্য রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ সুবিধা মিলবে। 

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আমাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। এই বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রথম ধাপে শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনতে সক্ষম হয়েছিল। এবার তা আরও ১ শতাংশ কমে ১৯ শতাংশে দাঁড়ালো। বাকি ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে এই ১৯ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।” 

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তুলা আমদানিকারক দেশ এবং চাহিদার মাত্র ২ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয়। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার বাংলাদেশের জন্য যেমন উপযোগী, তেমনি এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও সহায়ক হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং মেটাল স্ক্র্যাপ আমদানির বিষয়গুলোও সরকার বিবেচনা করছে।” 

বাণিজ্য উপদেষ্টা এই অর্জনকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও তৈরি পোশাক খাতের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।