দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ— উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ নামে এই উদ্যোগের আওতায় একজন তরুণ উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন পাবেন। এর অর্ধেক অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে ব্যাংক ঋণ হিসেবে। বাকি ১০ লাখ টাকা থাকবে অনুদান হিসেবে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ঋণের বিপরীতে কোনও সহায়ক জামানত দিতে হবে না। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
তিনি জানান, ‘উদ্যোগ’ কোনও প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচি নয়। তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করা হবে। পরে তাদের ব্যবসায়িক ধারণা, সম্ভাব্যতা ও প্রকৃত অর্থের প্রয়োজন যাচাই করে অর্থায়ন করা হবে।
ঋণের সঙ্গে অনুদান
কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক তরুণ উদ্যোক্তা তার প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন প্যাকেজ পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা অনুদান।
তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থও সুদবিহীন ঋণে পরিণত হবে। ওই ঋণ প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকরণ করা হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।
বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ২৮ বছর
কর্মসূচিতে আবেদন করতে হলে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখে বয়স ২৮ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। পাশাপাশি আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা হতে হবে।
এক্ষেত্রে আগে থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক নয়। সম্ভাবনাময় ও বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেও আবেদন করা যাবে।
কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য, পশুপালন, হস্তশিল্প, পর্যটন, সেবা ও প্রযুক্তিসহ সব ধরনের বৈধ উদ্যোগকে কর্মসূচির আওতায় বিবেচনা করা হবে।
আবেদনের জন্য কোনও ফি দিতে হবে না। নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনও তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
প্রথম ধাপে ৮ জেলার ৬৪ উপজেলা
প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের আটটি জেলা— মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণায় কর্মসূচি শুরু হবে। এসব জেলার ৬৪টি উপজেলায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে প্রথম ধাপে নির্বাচন করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য উপজেলায়ও কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে এই কর্মসূচির আওতায় অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
অর্থের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ
তরুণদের শুধু অর্থায়ন দেওয়ার মধ্যেই কর্মসূচির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারণা, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তিন থেকে পাঁচ জনের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন। ফলে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতেও এই কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে।
আবেদন শুরু কবে
কর্মসূচির বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও অন্যান্য শর্ত উল্লেখ করে বিস্তারিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলার জারির পরবর্তী এক মাস আবেদন গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনও তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন যোগ্য তরুণরা।