ওয়ালটন কারখানায় এইচএফসি ফেজ আউটে ইউএনডিপির সঙ্গে চুক্তি

এইচএফসি গ্যাস ফেজ আউট প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরাওয়ালটন কারখানায় ফ্রিজ ও কম্প্রেসরে ক্ষতিকারক এইচএফসি গ্যাস ফেজ আউট প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি। গত ৫ মে রাজধানীর ইআরডি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ ও ইউএনডিপি’র ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস কয়োকা ইউকোসুকা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে এই প্রকল্প একটি মাইলফলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আর ইআরডি’র অধীনে এটি বাস্তবায়নে সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে ইউএনডিপি ও ওয়ালটন।

জানা গেছে, একবছর মেয়াদী প্রকল্পটির আওতায় ওয়ালটন কারখানা ও সার্ভিস সেন্টারে ফ্রিজ ও কম্প্রেসর থেকে পুরোপুরি এইচএফসি ফেজ আউট করে গ্রিন হাইড্রোকার্বন টেকনোলজির ব্যবহার নিয়ে কাজ চলছে। এতে এইচএফসি-১৩৪এ রেফ্রিজারেন্টের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব এইচসি-৬০০এ (আইসোবিউটেন) রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রতি বছর প্রায় ২৩০ মেট্রিক টন এইচএফসি গ্যাসের নিঃসরণ রোধ হবে। এছাড়া বার্ষিক প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করা যাবে।

চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কিয়োকা ইয়োসুকা বলেন, ‘বিশ্বে এইচএফসি কনভার্শন টেকনোলজি স্থাপনে ওয়ালটন এগিয়ে আছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে এই প্রকল্প বাংলাদেশ সরকার, ইউএনডিপি ও বেসরকারি খাতে পার্টনারশিপের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশ্বের প্রথম প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রকল্প হাতে নেওয়ায় বাংলাদেশ ও ওয়ালটনকে অভিনন্দন জানাই। এ প্রকল্প শুধু ওজোন স্তর রক্ষায়ই অবদান রাখবে না, বরং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’

ইআরডির অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি সুলতানা আফরোজ বলেন, ‘মন্ট্রিল প্রোটোকল বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রশংসিত। এ বিষয়ে ওয়ালটনের কাজে আমরা গর্বিত।’

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আশরাফুল আলম জানান, ওয়ালটন কারখানায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স রক্ষা ও ইনভার্টার টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। পরিবেশ সুরক্ষায় যত্নশীল থাকায় গত বছর তারা জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি শামসুর রহমান, ইউএনডিপির কেমিক্যাল ও মন্ট্রিল প্রোটোকল বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক আশরাফুল আম্বিয়া, ইআরডি’র সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহসিনা আক্তার বানু, ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম, অপারেটিভ ডিরেক্টর তৌফিক-উল-কাদের প্রমুখ।