আমদানি ও রফতানি বেড়ে গেছে। রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। এর ফলে অর্থনীতির চাকাও সচল হওয়ার ইংগিত মিলছে। শুধু তাই নয়, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ আগের চেয়ে সামান্য বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত এক মাসে বেসরকারি খাতে ১৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো।
ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন বিনিয়োগ উদ্যোগের কারণে চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) শুরু থেকেই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ধীরে ধীরে বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পুঞ্জিভূত পরিমাণ ১২ লাখ ১০ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। আগের মাস আগস্টে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত আগস্টে ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে দশমিক ৩৫ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি। তবুও এর পরিমাণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ পয়েন্ট কম। অর্থাৎ গত সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মূলত, বিনিয়োগ বাড়ায় চলতি মূলধনের চাহিদাই ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমদানি- রফতানি বেড়ে গেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি পেয়েছে। এর ফলে বেসরকারি খাতেও ঋণ প্রবাহ বাড়ার কথা।’ তার মতে, ব্যাংকগুলোর উচিত দেখে শুনে ভালো গ্রাহকদের ঋণ দেওয়া।
প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমে আসায় চলতি বছরের জুনে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশে ফিরে কিছুটা পুনরুদ্ধার লাভ করে। তারপর থেকে ঋণ প্রবাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। জুলাই ও আগস্টে যা ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩৮ ও ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ।
এদিকে, আমদানি বাড়ায় টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় মূল্যও বেড়েই চলেছে। গত আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ৩০ কোটি ডলারের বেশি বিক্রি করেছিল। পরের মাসে এই অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে ৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলারে পৌঁছায়। অক্টোবরের ১৯ তারিখ পর্যন্ত বিক্রি করেছে ৭৪ কোটি ডলার। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১৬৮ কোটি ডলার বিক্রির তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুসারে, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদে বাংলাদেশ ১৭ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। যার বিপরীতে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে ১৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে।