কলাবাগান এলাকার গৃহিণী রাবেয়া শুক্রবার সকালে ৫ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে বের হলেন। দোকানে গিয়ে জানলেন যে, ৫ লিটারের বোতল নেই। আছে রূপচাঁদার আধা লিটার কিংবা পুষ্টির ২৫০ মিলি বোতল। দাম কত জানতে চাইলে দোকানি জানান, আধা লিটার রূপচাঁদা তেলের বোতল ৯৫ টাকা এবং ২৫০ মিলি বোতলের দাম ৫০ টাকা। তাতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়ে রূপচাঁদা ১৯০ টাকা এবং পুষ্টি ২০০ টাকা, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত ৩৫-৪০ টাকা বেশি।
শুক্রবার (১১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও পাড়া-মহল্লার দোকানে তেল আছে, কোথাও নেই। যাদের কাছে তেল আছে তা মূলত ছোট বোতল, অর্থাৎ আধা লিটার কিংবা ২৫০ মিলি বোতল। ৫ লিটারের বোতল সরবরাহ নেই বলে জানান দোকানিরা। তারা বলছেন, ছোট বোতল সরবরাহ করা হলেও তার পরিমাণ সীমিত।
কলাবাগান এলাকার দোকানি হোসেন জানান, পাঁচ লিটার তেলের বোতল রূপচাঁদা ব্র্যান্ড ৮০০-৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কোম্পানি সাপ্লাই দেয় না। আমরা বাজার থেকে ৮০০ টাকায় কিনে ৮২০ টাকায় বিক্রি করি। তীর ব্র্যান্ডের ৫ লিটারের বোতল ৮০০-৮১০ টাকায় বিক্রি করি।’
পাশেই অপর এক দোকানি জানান, ৫ লিটারের বোতল কোম্পানি সরবরাহ করছে না। আধা লিটার আর ২৫০ মিলি বোতল দিয়ে যায়। সেগুলোর গায়ে লেখা রেট থেকে ৪-৫ টাকা বেশি দামে হয়তো কেউ কেউ বিক্রি করে।
দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, সরকার ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করেছে এক লিটার আর পাঁচ লিটার বোতলের ভিত্তিতে। আধা লিটার আর ২৫০ মিলি বোতলের গায়ে যে রেট, তাতে কোম্পানির লাভ বেশি। দোকানিরা বেশি দামে বিক্রি করতে পারে না। লাভও কম হয়।
রূপচাঁদার আধা লিটার বোতলের দাম গায়ে লেখা আছে ৯০ টাকা, পুষ্টি ব্র্যান্ডের ২৫০ মিলি সয়াবিন তেলের দাম গায়ে লেখা ৪৭ টাকা। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, লিটার প্রতি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে।
আমদানি মূল্য ও বাজার বিশ্লেষণ করে সরকার গত ৬ ফেব্রুয়ারি সয়াবিন তেলের মূল্য বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। সে অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৪৩ টাকা এবং পাম সুপার তেল ১৩৩ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। এদিকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) সয়াবিনে ২৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
অর্থমন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে উপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। বর্তমান বাজারে সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৬৮ টাকা। ঘোষিত হারে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে প্রতি লিটারে দাম ৩০ টাকার মতো কমার কথা হলেও বাজারে এর প্রভাব দেখা যায়নি।
অপরদিকে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের হটলাইনে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ‘অনেকেই ভোজ্যতেলের প্রকৃত দাম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। এটা প্রচার করা বেশি প্রয়োজন। কারও কাছ থেকে নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া হলে, আমাদের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে কল করে অভিযোগ জানাতে হবে। আমরা দ্রুত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’