অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, তফসিলি ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহার নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কারণে কোনও ব্যাংক ইচ্ছেমতো সুদ নিতে পারছে না। আগে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ হারে সুদ নেওয়া হতো। ফলে খেলাপি ঋণ বেড়ে যেতো। সুদহার নির্ধারণ করে দেওয়ায় ব্যাংকগুলো ভালো আছে। কোনও ব্যাংকের ক্ষতি হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সোনালী ব্যাংকের ৫০ বছরপূর্তির সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের শেষে সব ব্যাংকই মুনাফা করেছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, সুদের হার নির্ধারণ করে দেওয়া না হলে করোনার দুই বছর পর কোনও উদ্যোক্তা খুঁজে পাওয়া যেতো না।
সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, দেশের প্রথম অর্থসচিব মতিউল ইসলাম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ অনেকে।
গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো গ্রাহকবান্ধব সেবায় এখনও পিছিয়ে রয়েছে।’ তিনি গ্রাহকদের সেবা দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে আরও কাজ করার কথা বলেন।
ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রক্রিয়ায় সময় লাগে বেশি। হলমার্কের পর সোনালী ব্যাংকের ঋণভীতি আছে। এটা অবশ্যই কাটাতে হবে। শুধু বড় বড় প্রকল্পে ঋণ দিলে হবে না। ক্ষুদ্রঋণ আরও বাড়াতে হবে। সঠিকভাবে ঋণ দিলে কোনও ভীতি নেই।’
গভর্নর বলেন, ‘গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য সোনালী ব্যাংকের প্রচারের দরকার হয় না। করোনাকালেও এই ব্যাংক প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব শাখা খোলা রেখে সেবা দিয়েছে। কোভিডে ১২৮ ব্যাংকার মারা গেছেন, এরমধ্যে সোনালী ব্যাংকের ৩৩ জন। ব্যাংকটির লোকসানি শাখা কমে এখন ১৬টিতে দাঁড়িয়েছে।’ এটা দ্রুত শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় সোনালীসহ সরকারি ব্যাংকগুলোকে কিছু পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় তাল মিলিয়ে চলার জন্য নিজেদের তৈরি করতে হবে।’
অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিনই কোনও না কোনও ব্যাংক ফেল (দেউলিয়া) করছে। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনও ব্যাংক এখনও ফেল করেনি। কারণ, যখনই কোনও ব্যাংকে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে সরকার সেই ব্যাংকের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সোনালী ব্যাংক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিনা কমিশনে প্রায় এক লাখ কোটি টাকায় এলসি খোলার সুযোগ দিয়েছে। ফলে সরকারের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়। এভাবে সোনালী ব্যাংক রাষ্ট্রের গুরুত্ববহ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘মানুষের ব্যাংকভীতি দূর করে তাদের ব্যাংকমুখী করেছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংক। স্বাধীনতার অনেক পর ১৯৮২ সালে বেসরকারি ব্যাংক কাজ শুরু করে। এর আগে সরকারি ব্যাংক নিরলসভাবে সেবা দিয়ে গেছে।’