ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রতিনিধিদল এখন ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সফরের ২য় দিনে ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত “বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা” শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের কোন সীমান্ত নেই।
বৃহস্পতিবার (২৬ মে) ইন্ডিয়ান চেম্বারের কার্যালয়ে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শোভনদেব চ্যাটার্জি, সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অরূপ রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন। সেমিনারে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক পি কমলাকান্ত এবং কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রদূত আন্দালিব ইলিয়াস বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের কোন সীমান্ত নেই, উদ্যোক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সুবিধাজনক স্থানে তা পরিচালিত করে থাকেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, তবে তা বৃদ্ধির প্রচুর সুযোগ রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে দুদেশের বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্য-প্রযুক্তি এবং ফিনটেক খাতে বাংলাদেশ ও কলকাতার উদ্যোক্তাদের যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার উপর তিনি জোরারোপ করেন। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজতর করার লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে বেসরকারি খাতের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সাথে কলকাতার যোগাযোগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সংযোগ স্থল হিসেবে কাজ করতে পারে, পাশাপাশি তিনি স্থল বন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোরারোপ করেন কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রদূত আন্দালিব ইলিয়াস। তিনি বলেন, বর্তমানে দুদেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেশকিছু নীতিগত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তবে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি প্রদীপ সুরেকা বলেন, ঐতিহাসিক, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অধিকতর উন্নয়ন দুটো দেশই একযোগে কাজ করছে, তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে চার্নক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত শর্মা বলেন, স্বাস্থ্য সেবা অন্যতম সম্ভাবনাময় একটি খাত, যেখানে দুদেশের একযোগে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক আশীষ মৃধা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের জন্য বাংলাদেশ শুধুমাত্র অন্যতম ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবেই আবির্ভূত হয়নি, ভারতের রফতানির ক্ষেত্রে ৫ম বৃহত্তম গন্তব্যস্থল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করেছে এবং বাংলাদেশে ভারতের উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম চালু হলে আরও ভারতীয় উদ্যোক্তা বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।