কৃষক ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ঋণ নেওয়ার সময় বাড়লো

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের পেশাজীবী, কৃষক এবং প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে গঠন করা তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে ঋণ নেওয়ার সময় তিন মাসে বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়, আগামী বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তহবিল থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য আবেদন দাখিল করা যাবে। আগের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন দাখিল করার সুযোগ ছিল।

প্রসঙ্গত,  করোনার প্রাদুর্ভাব প্রলম্বিত হওয়ার নেতিবাচক প্রভাব থেকে এই শ্রেণির লোকদের উত্তরণ ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবারের তহবিল থেকে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর সরাসরি অর্থায়ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকের গ্রাহকরা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ২ শতাংশ কম সুদে ঋণ নিতে পারবেন। কারণ, ব্যাংকগুলো এ তহবিল থেকে গ্রাহকদের অর্থায়নে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ আদায় করতে পারবে। আর ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। এর আগে করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের পেশাজীবী, কৃষক এবং প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রথম দফায় তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়। প্রথম পর্যায়ের তহবিল বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০২১ সালের জুনে শেষ হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে পুরো তহবিল ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের এই তহবিল বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে ২০২১ সালের জুলাই থেকে।  গ্রাহক পর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকেও অর্থায়ন করার সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে কোনও খেলাপি গ্রাহক এ তহবিলের আওতায় ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

সার্কুলার অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কৃষি এবং বিভিন্ন আয়ের উৎস কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান এ তহবিলের ঋণ সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া অতিদরিদ্র অথবা কোনও অনগ্রসর গোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তি এবং অসহায় ও নিগৃহীত নারী সদস্য এ ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবেন।