চামড়া শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে চায় এসএমই ফাউন্ডেশন

হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারে সরিয়ে নেওয়ার পর কিছুদিনের জন্য সেখানকার অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দেয়। তবে এসএমই ফাউন্ডেশনের সহায়তায় নতুন রূপে জেগে উঠছে হাজারীবাগ। চামড়া শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে চাই ফাউন্ডেশন। এ লক্ষ্যে রবিবার (২৩ আগস্ট) এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল হাজারীবাগ ক্লাস্টার পরিদর্শন এবং সেখানে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।

পরে এসএমই ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্যানারি স্থানান্তরের পর হাজারীবাগ চামড়াপণ্য ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে সহায়তা করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এর ফলে এ শিল্পে বছরে লেনদেন প্রায় ৬০ কোটি টাকার পাশাপাশি হচ্ছে রফতানিও। দেশব্যাপী ১৭৭টি ক্লাস্টার চিহ্নিত করে সরেজমিন পরিদর্শন ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের প্রেক্ষিতে এসব ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে সহায়তা করছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনে নতুন রূপে জেগে উঠছে হাজারীবাগ। পুরনো ট্যানারি পল্লিতে গড়ে উঠছে চামড়াজাত পণ্যের বাজার। বিশেষ করে চামড়ার তৈরি বেল্ট, ওয়ালেট, জুতা, পার্টস, অফিসিয়াল ব্যাগসহ নানা ধরনের পণ্যের বাজার গড়ে উঠেছে এখানে। সাভারে স্থানান্তরিত ট্যানারি শিল্পের মালিকরাও তাদের এখানকার কারখানার জায়গাজুড়ে চামড়াজাত পণ্যের শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দিয়েছেন। ফলে হাজারীবাগ ট্যানারি মোড় থেকে লেদার কলেজ, হাজারীবাগ বাজার, ধানমন্ডি-১৫ নম্বর গলিসহ বিভিন্ন স্থানে ৪শ’রও বেশি দোকান, শোরুম ও ছোট ছোট চামড়াজাত পণ্যের কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে রফতানির মানসম্পন্ন জুতা, ব্যাগ, করপোরেট চামড়াজাত পণ্য বেচাকেনা হচ্ছে। ক্লাস্টারটির বার্ষিক লেনদেন প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকা। দেশের বাজারে চামড়াপণ্য সরবরাহের পাশাপাশি ক্লাস্টারটির উদ্যোক্তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইতালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশেও পণ্য রফতানি করে থাকেন।

ক্লাস্টারটির উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশন গৃহীত কার্যক্রম

১. সমজাতীয় ক্লাস্টারের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা, বহুমুখী পণ্য ও নতুন বাজার সম্পর্কে ধারণা অর্জন, ব্যবসায়ের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে ধারনা লাভ ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের পূর্ব মাদারবাড়ি লেদার ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে হাজারীবাগ ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের মতবিনিময়।

২. ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় ও বিভাগীয় এসএমই পণ্য মেলা, হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভালসহ বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণ।

৩. ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের নেপাল এক্সপো-২০২২ এ অংশগ্রহণ।

৪. ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কার্যক্রমের আওতায় ক্লাস্টারের ২২ জন উদ্যোক্তাকে প্রায় ১ কোটি টাকা ঋণ প্রদান।

এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খান, হাজারীবাগ লেদারক্র্যাফট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তানিয়া ওয়াহাব এবং অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোক্তাগণ।

এ সময় উদ্যোক্তারা বলেন, ট্যানারি সরিয়ে নেওয়ার পর হাজারীবাগে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে না। তবে এখনও হাজারীবাগ ‘রেড জোন’ হিসেবে থাকায় উদ্যোক্তাদের পণ্য রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া উৎসে অতিরিক্ত কর কেটে নেওয়া, অতিরিক্ত ভ্যাট আদায়, বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরিতেও সমস্যার কথা তুলে ধরেন উদ্যোক্তারা।

উল্লেখ্য, জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অপার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে সরকার চামড়া শিল্পকে জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ তে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে অন্তর্ভূক্ত এবং ২০১৭ সালে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যকে বর্ষসেরা পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে। এসএমই ফাউন্ডেশন মনে করে, ‘হাজারীবাগ লেদার ক্লাস্টার’ উন্নয়নের মাধ্যমে এই শিল্পকে অর্থনৈতিক মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব। সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ক্লাস্টারে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।