গত ২০ বছরের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ছিল সর্বনিম্ন। বুধবার (২৩ জুলাই) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আওতায় মাত্র ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা, কিন্তু খরচ হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খরচ কমেছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা। এমন পরিস্থিতি কেবল কোভিডের প্রাথমিক বছরেই দেখা গিয়েছিল। তবে এবারের ঘাটতি ছিল আরও বেশি।
আইএমইডি’র ওয়েবসাইটে ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে এখনও পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হিসাব রয়েছে। তাতে দেখা যায়, সাধারণত সংশোধিত এডিপির ৮০ থেকে ৯৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু চলতি বছরের বাস্তবায়ন হার সেই ধারা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে।
অস্থিরতা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা প্রধান কারণ
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিদায়ী অর্থবছরের শুরুতেই ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে। বেশ কয়েক দিন কারফিউ জারি ছিল, বন্ধ ছিল সরকারি অফিস ও কাজ। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের ফলে অনেক প্রকল্প পরিচালকের খোঁজ মেলেনি। অনেক ঠিকাদারও দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ফলে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
ব্যর্থতার তালিকায় শীর্ষে স্বাস্থ্য খাত
প্রকল্প বাস্তবায়নে সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, কিন্তু খরচ হয়েছে মাত্র ৩৫০ কোটি টাকা—বাস্তবায়ন হার মাত্র ১৫ শতাংশ।
আরও চারটি বিভাগ যাদের বাস্তবায়ন হার অত্যন্ত কম: স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২১ শতাংশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় শতাংশ, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৩৭ শতাংশ, ভূমি মন্ত্রণালয় ৩৭ শতাংশ।
ব্যতিক্রম বিদ্যুৎ বিভাগ
অবশ্য সব খাতই পিছিয়ে ছিল না। বিদ্যুৎ বিভাগ ছিল ব্যতিক্রম। তারা বরাদ্দের ৯৮ শতাংশ অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের স্থবিরতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি না বাড়লে আগামী অর্থবছরেও উন্নয়ন প্রকল্পের গতি ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।