দেশের অর্থনীতির প্রধান লাইফলাইন চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে বন্দরে প্রায় ৫৪ হাজার কনটেইনার পণ্য আটকা পড়ে রয়েছে। পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন কনটেইনার প্রতি গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ডেমারেজ বা ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে।
অচলাবস্থার নেতিবাচক প্রভাব
ডিসিসিআই জানায়, দেশের মোট আমদানি ও রফতানির প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্য এই বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। প্রতিদিন গড়ে ৯ হাজার টিইইউ কনটেইনার খালাস হওয়া এই বন্দরে হঠাৎ স্থবিরতা আসায় রফতানি খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব না হওয়ায় অনেক আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা অন্য দেশে স্থানান্তরের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদেশি ক্রেতারা সাময়িকভাবে সময় বাড়াতে রাজি হলেও সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তারা বিকল্প দেশের দিকে ঝুঁকতে পারে।
রমজান ও বাজার পরিস্থিতির ঝুঁকি
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাসে এই দীর্ঘসূত্রিতা স্থানীয় বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডিসিসিআই। সংগঠনটি মনে করে, বন্দরের কার্যক্রমে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অচলাবস্থা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, যা সাধারণ ভোক্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য, বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত বুধবার থেকে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে শ্রমিক-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। এই আন্দোলনের কারণে বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ জট তৈরি হয়েছে এবং জেটিতে কোনো পণ্য ওঠানামা করছে না।
ডিসিসিআই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যবসায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং আন্দোলনরত শ্রমিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকট নিরসনের জোর দাবি জানিয়েছে।