রাজধানীর অভিজাত এলাকার নামিদামি রেস্টুরেন্টেও ভ্যাট চালান বা রসিদ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, “গত দেড় বছরে বিভিন্ন জায়গা থেকে কেনাকাটা করেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভ্যাট চালান পায়নি।”
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকালে আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ অভিজ্ঞতার কথা জানান।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “সম্প্রতি ধানমন্ডির একটি নামি রেস্টুরেন্টে ১৪ জন বন্ধুকে নিয়ে রাতের খাবারের আয়োজন করেছিলাম। কানাডা থেকে আসা এক বন্ধুর সম্মানে এ আয়োজন ছিল। খাবার শেষে ভ্যাট চালান দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “এর দুই দিন আগে এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পথে একটি দোকান থেকে মিষ্টি কিনলেও সেখানেও কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি।
গত দেড় বছরে বিভিন্ন জায়গায় কেনাকাটা করেছি, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভ্যাট চালান পায়নি। বাস্তবতা হলো—ভ্যাট চালান দেওয়ার সংস্কৃতি এখনও গড়ে ওঠেনি। এই বাস্তবতা স্বীকার না করলে সামনে এগোনো কঠিন হবে।”
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আব্দুর রহমান খান বলেন, “ক্রেতা হিসেবে প্রত্যেকেরই কেনাকাটার সময় ভ্যাট চালান পাওয়ার কথা। তবে, বাস্তবে তা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে এনবিআর করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে কাজ করছে।”
এদিকে, প্রাক-বাজেট আলোচনায় ভ্যাট কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেন বাংলাদেশ হোটেল, রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেজর (অব.) এম জাহাঙ্গীর হোসাইন। তিনি অভিযোগ করেন, নিয়মিত ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে। অনেক সময় কর্মকর্তারা অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করেন এবং কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক হেনস্থার ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের অভিযোগে এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের চাপের অন্যতম কারণ হলো প্রকৃত বিক্রয় তথ্যের ঘাটতি। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করা হলেও তা সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হয় না। ব্যবসায়ীরা যদি সঠিকভাবে সফটওয়্যার ও হিসাবপত্র সংরক্ষণ করেন, তাহলে এসব জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে।”