সারচার্জ বিলোপ করে আসছে সম্পদ কর: এনবিআর চেয়ারম্যান

আসন্ন বাজেটে বিদ্যমান সারচার্জ ব্যবস্থা বিলোপ করে আবারও সম্পদ কর (ওয়েলথ ট্যাক্স) চালুর চিন্তা করছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, এতে কর ব্যবস্থায় বিদ্যমান অসামঞ্জস্য দূর হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণও বাড়বে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “বর্তমানে আয়কর আইন-২০২৩ ও অর্থ অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী তিন ধরনের সারচার্জ প্রচলিত রয়েছে— সম্পদের ওপর সারচার্জ, পরিবেশ সারচার্জ এবং বিশেষ সারচার্জ। তবে এই ব্যবস্থায় বাস্তবে অনেক অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।” 

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “কেউ পৈতৃক সূত্রে গুলশানে ৩০০ কোটি টাকার একটি সম্পত্তির মালিক হতে পারেন। কিন্তু তার নিট সম্পদ চার কোটি টাকার নিচে থাকলে সারচার্জ দিতে হয় না। ফলে কর ব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের অসামঞ্জস্য দূর করতে সারচার্জ বাতিল করে আগের সম্পদ কর পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।” 

তিনি বলেন, “কর ব্যবস্থার মৌলিক নীতি হলো— যাদের আয় ও সম্পদ বেশি, তাদেরই সমাজে বেশি অবদান রাখা উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় অনেক সম্পদশালী ব্যক্তি কর ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।” 

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সারচার্জ নিয়ে নানা আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় কাগজে সম্পদের মূল্য বেশি থাকলেও বাস্তবে তা কমে যায়। যেমন কেউ ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পরে সেটি কমে ১০ লাখে নেমে এলেও তাকে আগের হিসাব অনুযায়ী সারচার্জ দিতে হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে করদাতারা অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়েন।” 

বর্তমান সারচার্জ কাঠামো 

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির নিট সম্পদ চার কোটি টাকার বেশি হলে তার আয়করের ওপর নির্ধারিত হারে সারচার্জ দিতে হয়। নিট সম্পদের পরিমাণ অনুযায়ী সারচার্জের হার ধাপে ধাপে বাড়ে।

নিট সম্পদ চার কোটি টাকার বেশি কিন্তু ১০ কোটি টাকার মধ্যে হলে আয়করের ওপর ১০ শতাংশ সারচার্জ আরোপ হয়। ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে হলে ২০ শতাংশ, ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে হলে ৩০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি হলে ৩৫ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয়।

এছাড়া একাধিক মোটরগাড়ি থাকলে বা ৮ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের আবাসিক সম্পত্তি থাকলেও সারচার্জ প্রযোজ্য হয়।

পরিবেশ সারচার্জ 

একাধিক মোটরগাড়ির ক্ষেত্রে পরিবেশ সারচার্জ আরোপ করা হয়। সবচেয়ে কম করযোগ্য গাড়ি ছাড়া অন্য প্রতিটি গাড়ির জন্য এই সারচার্জ দিতে হয়। গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এর হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির জন্য ২৫ হাজার টাকা, ২০০০ সিসি পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা এবং ২০০০ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির জন্য ৭৫ হাজার টাকা পরিবেশ সারচার্জ দিতে হয়। ২৫০০ থেকে ৩০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে এই হার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ৩০০০ থেকে ৩৫০০ সিসি পর্যন্ত ২ লাখ টাকা এবং ৩৫০০ সিসির বেশি ক্ষমতার গাড়ির জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা সারচার্জ নির্ধারিত রয়েছে।

তবে ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে পরিবেশ সারচার্জ আরোপ করা হবে না বলেও জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

বিশেষ সারচার্জ 

তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ওই ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ হারে বিশেষ সারচার্জ দিতে হয়। এছাড়া কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতার জন্য আইনি বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা না থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপরও একই হারে সারচার্জ আরোপ করা হয়।