করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা ও সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ চায় ডিসিসিআই

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে করজাল সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সভায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।  

ডিসিসিআই জানায়, বর্তমানে বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশে অবস্থান করায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করা হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতারা স্বস্তি পাবেন এবং তাদের ভোগান্তি কমবে।  

সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থনীতি এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য করদাতা করজালের বাইরে থাকায় সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারাচ্ছে। কর ব্যবস্থাকে সহজ ও স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) করা গেলে নতুন করদাতা শনাক্ত করা এবং করজাল সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।  

কর কাঠামোয় সংস্কারের প্রস্তাব  

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ডিসিসিআই মোট ২৩টি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার লিস্টেড কোম্পানির সমপর্যায়ে (২৫%) নির্ধারণ, উৎপাদন পর্যায়ে অগ্রিম কর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর হ্রাস।  

এছাড়া ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করতে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ভ্যাট সংগ্রহে ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ চালু, অগ্রিম ভ্যাট ব্যবস্থা পুরোপুরি বিলুপ্ত করে কেবল চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের ওপর ভ্যাট নির্ধারণ, ভ্যাট ফেরত (রিফান্ড) প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘এক দরজায় সেবা’ চালু।  

বিশ্ব অর্থনীতির চাপ ও বাজেট প্রত্যাশা 

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে।

তিনি বলেন, “এই প্রেক্ষাপটে একটি সময়োপযোগী, বাস্তবমুখী ও কার্যকর বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করি, আসন্ন বাজেটে ব্যবসায়ী সমাজের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।” 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন এবং আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।