দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। উৎপাদন, সেবা, নির্মাণ ও কৃষি— চারটি প্রধান খাতেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ফলে মে মাসে বাংলাদেশের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৮-এ, যা আগের মাস এপ্রিলের তুলনায় ৮ দশমিক ২ পয়েন্ট বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি দেশের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের শক্তিশালী ইঙ্গিত বহন করছে।
সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত বাংলাদেশ পিএমআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন ও সেবা খাতে জোরালো প্রবৃদ্ধি, নির্মাণ খাতের পুনরুদ্ধার এবং কৃষি খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণের কারণে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য গতি ফিরে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি খাত টানা নবম মাসের মতো সম্প্রসারণের ধারা বজায় রেখেছে। এ খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেলেও নতুন ব্যবসা এবং উৎপাদন উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। একই সময়ে জমে থাকা কাজের পরিমাণে সংকোচনের প্রবণতা দেখা গেছে।
উৎপাদন খাতেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো এ খাতে সম্প্রসারণ হয়েছে এবং প্রবৃদ্ধির হার আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। নতুন কার্যাদেশ, রফতানি আদেশ, কাঁচামাল ক্রয় এবং কর্মসংস্থানে শক্তিশালী অগ্রগতি দেখা গেছে। পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রম এবং জমে থাকা কার্যাদেশের পরিমাণও পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, টানা তিন মাসের সংকোচনের পর নির্মাণ খাত আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। নতুন প্রকল্প, নির্মাণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে এ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বৃদ্ধির হার আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেবা খাতও ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। টানা ২০ মাস ধরে এ খাত সম্প্রসারণের মধ্যে রয়েছে। মে মাসে ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন ব্যবসা আহরণের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
খাতভিত্তিক সূচকে দেখা যায়, মে মাসে কৃষি খাতের পিএমআই ছিল ৭০, উৎপাদন খাতের ৬৪ দশমিক ১, সেবা খাতের ৬২ দশমিক ৩ এবং নির্মাণ খাতের ৫২ দশমিক ৯। এপ্রিল মাসে এসব খাতের সূচক ছিল যথাক্রমে ৭০ দশমিক ৭, ৫৬ দশমিক ৯, ৫১ দশমিক ৮ এবং ৪৪ দশমিক ৬।
ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কৃষি, নির্মাণ ও সেবা খাতে সম্প্রসারণের ধারা আগামী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে। তবে উৎপাদন খাতে ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা তুলনামূলকভাবে কিছুটা দুর্বল এবং সেখানে প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন সম্পর্কে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং বাজারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় মে মাসে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে।
উল্লেখ্য, পিএমআই সূচকের মান ৫০-এর ওপরে থাকলে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, ৫০ হলে স্থিতিশীল অবস্থা এবং ৫০-এর নিচে থাকলে অর্থনৈতিক সংকোচন নির্দেশ করে। সে বিবেচনায় মে মাসের ৬২ দশমিক ৮ স্কোর দেশের অর্থনীতিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির বার্তাই দিচ্ছে।