আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক।
নুর নবী মানিক বলেন, “ইসলামী ব্যাংকের চলমান সংকট নিরসনে গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এসব দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।” কেন্দ্রীয় ব্যাংক দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলে স্বীকার করলেও সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর কোনও উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা দেখাতে পারছে না। ফলে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।”
গ্রাহক ফোরামের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন; ২০১৭ সালে মালিকানা হারানো শেয়ারহোল্ডারদের বৈধ মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া; ব্যাংক খাতের লুটপাট ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন; এস আলম গ্রুপসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা; ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বিরাজমান আতঙ্ক দূর করে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা; লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও অভিযুক্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা; এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(ক) ধারা সংশোধনের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তিদের ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় ফেরার সুযোগ বাতিল করা।
এছাড়া জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ব্যাংকটি পুনরায় বিতর্কিত গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করার দাবিও জানানো হয়।
অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, “শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নের পরিবর্তে কোনও কুচক্রী মহলের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা হলে তা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য ক্ষতিকর হবে। আমানতকারীদের স্বার্থ ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আগামী বুধবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
উল্লেখ্য, ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির সুশাসন, আমানতের নিরাপত্তা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।