সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রবিবার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতি এবং কর ফাঁকি রোধে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সাময়িক হিসাবে আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।
কর ফাঁকি রোধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, কাস্টমস-সংক্রান্ত কর ফাঁকির অভিযোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭০২টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৯২টি মামলার নিষ্পত্তিও হয়েছে।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে দুইমুখী কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে। ‘ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর অব্যাহতি বা ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও বকেয়া আদায়ে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট জোরদার, ঝুলে থাকা মামলা নিষ্পত্তি, বকেয়া আদায়, নিলাম কার্যক্রম গতিশীল করা, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন, অনিষ্পন্ন চালান দ্রুত খালাস এবং ডেফার্ড পেমেন্টসহ বিভিন্ন খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া খাতভিত্তিক শুল্ক-কর অব্যাহতি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডভিত্তিক কাস্টমস কার্যক্রম, ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিং ও স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে। একই সঙ্গে বিলাসী ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর শুল্ক-কর হার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।