ঋণখেলাপি হওয়ায় আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি মো. আলী আফজালের পদ শূন্য ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে রিহ্যাব সভাপতি মো. আলী আফজালকে একটি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ধারা ২৩(১)(খ) অনুযায়ী তাঁর রিহ্যাব সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল ঋণখেলাপি— এ-সংক্রান্ত তথ্য রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেয়েছে। এরপর আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আলী আফজাল এমন সময়ে রিহ্যাব সভাপতির পদ হারালেন, যখন তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
রিহ্যাবের সহসভাপতি মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসসহ পরিচালনা পর্ষদের ১০ সদস্য গত ২৬ জুলাই বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সিনিয়র সহসভাপতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মসহ মোট ১২টি অভিযোগ আনা হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে গত ৩০ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে রিহ্যাবের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে রিহ্যাব সভাপতিকে ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনার পর ১ আগস্ট রাজধানীর র্যাডিসন হোটেলে রিহ্যাবের এজিএম অনুষ্ঠিত হয়নি। একই কারণে ১২ থেকে ১৫ আগস্ট অনুষ্ঠেয় গ্রীষ্মকালীন আবাসন মেলাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
এরপর গত ১৯ আগস্ট রিহ্যাবের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। তবে সদ্য পদ হারানো সভাপতি আলী আফজাল সময় চাওয়ায় ওই শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়।
ঋণখেলাপি হিসেবে পদ হারানোর পর রিহ্যাবের পরবর্তী সভাপতি কে হবেন, সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।