জাপান থেকে পুরোনো মোটর পার্টস ও ইঞ্জিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা একটি চালানে ১৯টি পুরোনো ইঞ্জিন, বিভিন্ন ধরনের পুরোনো যন্ত্রাংশ এবং দুইটি গাড়ি পাওয়া গেছে। পণ্যের চালানটিতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটি আটক করে পরীক্ষার জন্য লক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমস হাউস, আইসিডি। পরে দুই দিন ধরে পণ্যচালানটি পরীক্ষা করে ঘোষণার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এসব পণ্য পাওয়া যায়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এনবিআর জানায়, জাপান থেকে আমদানিকৃত পুরোনো মোটর পার্টস ও ইঞ্জিনের ঘোষণা দিয়ে পণ্য-চালানটি আনা হয়। এর বিল অব এন্ট্রির (বি/ই) নম্বর সি-৯৭৬৬ এবং তারিখ ৩০ জুলাই ২০২৬। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১ সেপ্টেম্বর শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমস হাউস- আইসিডি পণ্যচালানটি লক করে।
পণ্যচালানটির আমদানিকারক চট্টগ্রামের চন্দনগাঁওয়ের আরাকান রোডের মৈত্রী অটোমোবাইল। আর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে রয়েছে ঢাকার খিলক্ষেতের নামাপাড়ার জে পি এক্সপ্রেস লিমিটেড।
পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর পণ্যচালানটি ‘ফোর্স কিপ ডাউন’ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর টানা দুই দিন পণ্যচালানটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষা শেষে চালানটিতে মোট ১৯টি পুরোনো ইঞ্জিন পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পুরাতন মোটর পার্টস এবং বিযুক্ত অবস্থায় থাকা দুইটি গাড়িও পাওয়া গেছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ধারণা, ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় চালানটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি রয়েছে।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পরীক্ষণ প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সার্বিক নির্দেশনায় এবং শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালকের সহযোগিতায় এ ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।