কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সেবা স্বাভাবিক হওয়ায় বন্ধ থাকা ৩০টি ব্যাংকের এটিএম, কার্ড, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআরভিত্তিক লেনদেন আবার চালু হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহকেরা এখন এসব সেবা ব্যবহার করে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন করতে পারছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) কয়েকটি ব্যাংক গ্রাহকদের খুদে বার্তার মাধ্যমে তাদের কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেন সেবা সচল হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে। ব্যাংক এশিয়া জানিয়েছে, তাদের এটিএম, কার্ড, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআর সেবা পুরোপুরি চালু হয়েছে।
এর আগে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে কয়েকটি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও এনপিএসবি-সংশ্লিষ্ট সেবা বিঘ্নিত হয়। এতে হঠাৎ করে এটিএম থেকে টাকা তোলা, কার্ডে কেনাকাটা ও বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল লেনদেনে ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকেরা।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মঙ্গলবার রাতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে স্যুইচিংসহ কার্ড-সংশ্লিষ্ট সব সেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পরই কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সেবা চালু হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বন্ধ থাকা এটিএম, কার্ড, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআর সেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
৩০ ব্যাংকের সেবা বিঘ্নিত
কিউ-ক্যাশের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রমের কারণে একযোগে ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন সেবা বিঘ্নিত হয়েছিল। ব্যাংকগুলো জানিয়েছিল, ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু সেবা বন্ধ থাকতে পারে।
সেবার তালিকায় ছিল অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও উরি ব্যাংক বাংলাদেশ।
তবে কিউ-ক্যাশের সমস্যার কারণে দেশের সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ—এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু ছিল।
বিকল্প ব্যবস্থায় লেনদেন চালু ছিল
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিশোধ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক ছিল। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস (বিএসিপিএস), বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) এবং রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস)।
ফলে কিউ-ক্যাশের আওতাভুক্ত কিছু ব্যাংকের নির্দিষ্ট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ব্যাংকিং খাতের সব ধরনের ইলেকট্রনিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ এবং বিকল্প পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল।
দ্রুত সেবা চালুর নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসি পরিচালিত কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলছিল। এর ফলে কয়েকটি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও এনপিএসবি-সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল লেনদেন সেবা বিঘ্নিত হয়।
গ্রাহকদের ভোগান্তি এবং আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিউ-ক্যাশ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে স্যুইচিংসহ কার্ড-সংশ্লিষ্ট সব সেবা দ্রুত চালু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সেবা স্বাভাবিক করার পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক (এক্স ক্যাডার-প্রকাশনা) ও সহকারী মুখপাত্র সাঈদা খানম সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সেবা চালু হওয়ায় এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহকেরা আবার এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন, কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআরভিত্তিক লেনদেন করতে পারছেন। এতে কয়েক দিন ধরে চলা ডিজিটাল লেনদেনের ভোগান্তির অবসান হয়েছে।